Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

বাসের জানালায় অস্বচ্ছ কাচে নারীর উদ্বেগ

খালেদ সাইফুল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:০৯, ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বাসের জানালায় অস্বচ্ছ কাচে নারীর উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে দেশে ধর্ষণের হার ক্রমবর্ধমান।  উদ্বেগজনকভাবে গণপরিবহনেও বেড়েছে সম্ভ্রমহানী।  দৈনিক পত্রিকার পাতায় প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত সংবাদ চোখে পড়ে।  চলতি মাসের ১১ জানুয়ারি ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে একজন পোশাকশ্রমিকের সম্ভ্রমহানীর ঘটনা ঘটেছে।  এই অপকর্মে জড়িত থাকে সাধারণত বাসের চালক এবং তার সহকারী।  উদ্বেগের ব্যাপার হলো, বাসে যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, অধিকাংশ সময় সেখানে একাধিক ব‌্যক্তি অংশ নেয়। 

রাজধানীতে গণপরিবহন ব‌্যবহারকারী নারীরা নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই আশঙ্কায় থাকেন।  এর উপর চলতি পথে নানা ধরনের ঝুটঝামেলা তো আছেই।  এমন পরিস্থিতিতে বাসের জানালায় ব্যবহৃত অস্বচ্ছ কাচ নারীদের জন্য যাতায়াত আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।  রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত বাসের জানালার কাচজুড়ে প্লাস্টিকের এক ধরনের স্টিকার বা টেপ ব‌্যবহার করা হচ্ছে।  অনেক সময় সেগুলো দৃষ্টিনন্দন করতে নকশা হিসেবেও ব‌্যবহৃত হয়।  ফলে জানালার কাচ অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে।  ফলে ভেতর থেকে বাইরে দেখা গেলেও বাইরে থেকে ভেতরে কিছুই দেখা যায় না।  বাইরের লোকজনের পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না ভেতরে যাত্রী আছে কি নেই।  বাসের জানালার কাচে এ ধরনের প্লাস্টিকের ব‌্যবহার দিন দিন বাড়ছে।  যা যাত্রীদের জন‌্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগ থেকে মিরপুর যাতায়াতকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায়ই বাসায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠতে হয়।  কখনো ফিরতে রাত হয়।  বাসের জানালায় এ ধরনের অস্বচ্ছ কাচ ব্যবহারের ফলে বাইরে থেকে কিছুই দেখা যায় না।  অনেক সময় বাসে নারী যাত্রী থাকে না।  সেক্ষেত্রে বাস থেকে নামার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।’

 

 

ঢাকায় বিভিন্ন রুটে চলাচলরত যেসব বাসের জানালায় এমন অস্বচ্ছ স্টিকার সংযোজন করা হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই সিটিং সার্ভিস।  সদরঘাট থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে চন্দ্রা ও সাভার রুটে চলাচলকারী বাহন পরিবহন ও সাভার পরিবহন, যাত্রাবাড়ি থেকে মিরপুর-১ রুটে চলাচলকারী ট্রান্স সিলভা পরিবহন, আজিমপুর থেকে উত্তরা ও গাজীপুর রুটে চলাচলকারী বিকাশ ও ভিআইপি পরিবহন, আজিমপুর থেকে মিরপুর রুটে চলাচলকারী মিরপুর লিংক লিঃ, এয়ারপোর্ট টু বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রুটসহ নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিটিং সার্ভিস বাসগুলোর কাচে এমন অস্বচ্ছ স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বাসে সাধারণত সিটের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয় না।  চলার পথে গাড়িগুলোর দরজা বন্ধ থাকে। রাতে কিংবা ভোরে এসব গাড়িতে যাত্রী সংখ্যাও কম থাকে।

আজিমপুর থেকে উত্তরায় যাতায়াতকারী এক নারী যাত্রী বলেন, ‘অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে প্রতিদিনই রাত হয়।  গণপরিবহনে ধর্ষণের ঘটনা শুনলে আমি নিজেও শঙ্কিত হয়ে পড়ি।  তখন যেসব বাসের ভেতরে বাইরে থেকে দেখা যায় না সেসব বাসে উঠি না।  কারণ বিপদে পড়লে বাইরে থেকে কেউ কিছুই বুঝতে পারবে না।  দুষ্কৃতিকারীদের জন্য এ ধরনের বাস খুবই নিরাপদ।’

কয়েকটি বাসের চালক ও সহকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসগুলো ওভারটেকিং-এর সময় মাঝে মাঝে অন্য বাসের ধাক্কায় জানালার কাচ ভেঙ্গে যায়।  তখন কাচের আঘাতে যাত্রীরা যেন আঘাত না পান এ কারণে স্টিকার লাগানো হয়।  স্টিকার থাকলে কাচের টুকরো ছুটে এসে যাত্রীদের শরীরে পড়ে না।  ভাঙ্গা কাচ স্টিকারের সঙ্গে লেগে থাকে।  যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা বলে জানান তারা।

অন‌্যদিকে দেশে গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল গাড়িতে কালো কাচ লাগানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করে।  আদেশে বলা হয়, গাড়ির জানালায় আলাদাভাবে লাগানো রঙিন, কালো, মার্কারি, অস্বচ্ছ, ফিল্ম, পলিথিন প্লাস্টিক জাতীয় কৃত্রিম আবরণ থাকলে ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এ আদেশ শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো।  মন্ত্রণালয়ের আদেশের পর তা বাস্তবায়ন হলেও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দেশনা না থাকায় কাচের ওপর স্টিকারের ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের চেয়ে বাসে ধর্ষণের ঘটনা ২০১৯ সালে প্রায় দ্বিগুণ হবে।  গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না।  বাসের জানালায় এ ধরনের কাচ নারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।  তবে শুধু নারী নির্যাতনের বিষয়টিই নয়- ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য নানা অপরাধকর্মও নির্বিঘ্নে করা সম্ভব এ ধরনের কাচ ব‌্যবহার করলে।’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মেট্রোপলিটন পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে