RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বৃহৎ পরিসরে পুরোদমে চলছে গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি

খালেদ সাইফুল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বৃহৎ পরিসরে পুরোদমে চলছে গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা কড়া নাড়ছে দরজায়। প্রতিবছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয় প্রাণের এই মেলা। যদিও মূল মেলা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

একুশে গ্রন্থমেলা ঘিরে লেখক-পাঠক, প্রকাশকদের শুরু হয় নানামুখী তোড়জোড়। ব্যস্ততা থাকে মেলা প্রাঙ্গণেও। এ সময়ের মূল ব্যস্ততা স্টল নির্মাণ এবং মেলার প্রস্তুতি নিয়ে। নানা আয়োজনে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও এর পেছনে রয়েছে অনেকের শ্রম। যারা তাদের দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের মাধ্যমে মেলার পরিপূর্ণ রূপ দেন।

প্রতিবছর গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশে হলেও এবছর মেলার পরিসর বেড়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি বড় অংশ মেলার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানেই নির্মাণ করা হচ্ছে স্টল ও প্যাভিলিয়ন। মেলা ছড়িয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশক ও স্টলসংখ্যা বাড়ছে বলেই মেলার পরিসর বেড়েছে বলে জানা যায়।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, স্টল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে। বেশ কিছু প্যাভেলিয়নের কাজ এখনো বাকি। সেগুলোর কাজ খুব শিঘ্রই শেষ হবে বলে জানালেন কর্মীরা। তারা কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য রাত জেগে কাজ করছেন বলেও জানান। একটি স্টল শেষ করতে তিন ধরনের কাজ করতে হয়। প্রথমত কাঠ কিংবা পারটেক্স বোর্ড দিয়ে স্টল নির্মাণ, এরপর বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ এবং সবশেষে রঙের কাজ করা হয়।

স্টল তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে তাদের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ১১টায়। এর মধ্যে খাওয়ার সময়টুকু ছাড়া বিশ্রাম মেলে না। সকাল ৮ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করলে তারা মজুরি পান দুই দিনের। রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করলে পান দেড় দিনের মজুরি। মেলায় কর্মরত মো. ফজের আলী বলেন, ‘একদিনের মজুরি ৭০০ টাকা। এখন অনেক কাজের চাপ। ফলে একদিনেই দুইদিনের কাজ করতে হচ্ছে। মেলার কাজ হাতে নিলে খাওয়ার সময়ও থাকে না। মালিকের খাওয়ানোর কথা থাকলেও নিজেদের দায়িত্বেই খেতে হয়।’

স্টল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হওয়ায় রং মিস্ত্রিদের কাজই এখন বেশি। তারা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং নিয়ে। অবসর প্রকাশনীর স্টলে রঙের কাজে ব্যস্ত মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনের মজুরি ৯০০ টাকা। জানুয়ারির ১৫ তারিখে কাজ শুরু করেছি। কাজ আজকেই শেষ হয়ে যাবে।’ 

এদিকে স্টল তৈরির কাজ তদারকিতে ব্যস্ত প্রকাশকরা। যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে নিজ নিজ স্টল মনমতো নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করছেন। দি ইউনিভার্সেল একডেমির কর্ণধার শিহাব উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘কাজ এখন শেষের দিকে। এসময় রং, নামলিপিগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা সেগুলো একটু দেখতে হচ্ছে। একদম শেষ পর্যায়ে কাজ বুঝে নেয়ার জন্যই একটু দেখাশোনা করতে হচ্ছে।’

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ জানান, এবারের মেলায় মোট ৯০০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৫৩টি প্রকাশনীকে। বাংলা একাডেমিসহ ৩৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে  প্যাভিলিয়ন দেয়া হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৪টি। মেলার নির্ধারিত স্থান গত বছরের থেকে প্রায় ৩ লাখ বর্গফুট বাড়িয়ে করা হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ বর্গফুট।

মেলায় প্রবেশপথ হিসেবে বাংলা একাডেমির প্রথম গেট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালীমন্দিরের গেট ব্যবহার হবে। মেট্রোরেলের কাজ চলায় টিএসসি থেকে মেলায় প্রবেশপথের দিকে রাস্তা সংকুচিত। তবে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ বরাবর রাস্তার মাঝ থেকে সকল ধরনের প্রতিবন্ধক তুলে দেয়া হয়েছে। ফলে বাংলা একাডেমির গেট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না।


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়