ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলা শিখতে তার সাত বছরের চেষ্টা (ভিডিও)

আমিনুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২১ ১:১৫:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২২ ১:১৮:১০ এএম

ভাষা। ভাব প্রকাশের অন্যতম এবং সেরা মাধ্যম। সাড়ে সাত’শ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি। তার মধ্যে মাতৃভাষা হিসেবে আমাদের বাংলা পঞ্চম। এই ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে প্রাণ দিয়েছিল রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ আরো নাম না জানা অনেকে। যে কারণে মাতৃভাষা বাংলা আমাদের কাছে অমূল্য।

পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, অন্য দেশে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ যখন বাংলায় কথা বলে, তখন থমকে না দাঁড়িয়ে উপায় থাকে না। তেমনই এক ঘটনা ঘটেছিল এই লেখকের সঙ্গে গেল ডিসেম্বরে নেপালে। ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠক্‌ঠক্‌ করে কাঁপতে কাঁপতে হোটেল বুদ্ধা প্যালেসের রেস্টুরেন্টে গরম পানির খোঁজ করতে গিয়ে দেখা হয় খিল বুর্জা (ডাক নাম নিখিল) নামের এক নেপালির সঙ্গে। যিনি হোটেল বুদ্ধা প্যালেসের কুক। তার কাছে ইংরেজিতে পানি চাইতেই বাংলায় প্রশ্ন করে বসেন ‘বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?’ প্রশ্ন শুনে চমকে যাই। এরপর একদিন অবসরে তার সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়।

জানা যায় তিনি সাত বছরের প্রচেষ্টায় শিখেছেন বাংলা ভাষা। নেপালি ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও তিনি ভালোবাসেন। নিজেকে বাঙালি বলতে পছন্দ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন নিখিল কেবল বাংলা নয়, নেপালি-হিন্দিসহ সাত-আটটি ভাষায় কথা বলতে পারেন।

অবশ্য এটি তিনি শিখেছেন জীবনের নানান ঘাত-প্রতিঘাতে। জীবিকার তাগিদে তিনি ১৯৯৯ সালে কলকাতা যান। সেখানে গিয়ে হোটেলে বয়ের কাজ নেন। কলকাতায় কাজ করতে গিয়েই বাংলা ভাষার প্রতি তার টান তৈরি হয়। এরপর নেপালে ফিরে আসেন। ২০০৩ সালে কুকের কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে নাজদিয়া কোম্পানিতে কাজ করার সময় অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি একই জায়গায় থাকতেন। বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকতে থাকতে শেখার চেষ্টা করেন বাংলা। শেষ পর্যন্ত সাত বছরের প্রচেষ্টায় পুরোপুরি আয়ত্বে আনেন বাংলা ভাষা। সৌদি আরবে যেসব বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল তাদের মধ্যে মতিয়া মুতুয়াল্লি নামক একজনকে ভীষণ মিস করেন। যিনি সৌদি আরবে থাকাকালীন মারা গিয়েছিলেন। কথা বলার সময় তার কথা একাধিকবার বলেছেন নিখিল।

সৌদি আরব থেকে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ৭ বছর সেখানে থেকে যা রোজগার করেছিলেন তা দুই বছর বসে খান। এরপর কাজ শুরু করেন কুক হিসেবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন নিখিলের ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল রন্ধন শিল্পে। আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন ছোটবেলায় মা, কাকিমা আর বৌদিদের রান্না দেখতে খুব ভালো লাগতো। কৌতূহল নিয়ে তিনি তাদের কাছ থেকে রান্নার বিভিন্ন দিক ও উপকরণ সম্পর্কে ধারণা নেন। এক সময় নিজেও রান্না শুরু করেন। সেটিই তার এখন জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪৩ বছর বয়সী নিখিল ইচ্ছা পোষণ করেছেন বাংলাদেশে আসার। স্মৃতিচারণ করেছেন সৌদি আরবে কাজ করা তার বাংলাদেশি বন্ধুদের নিয়ে। তাদেরকে ভালোবাসেন, তাদের মিস করেন সেটিও বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন একদিন হয়তো আবার তাদের সঙ্গে দেখা হবে।

নিখিলদের মতো যারা বাংলা ভালোবেসে শিখেছেন, বাংলা ভাষাকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন ভিনদেশি হয়েও, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভালোবাসা।



ঢাকা/আমিনুল/তারা