ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ক্ষুদ্র বই বিক্রেতাদের বড় সংকট

খালেদ সাইফুল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:১৯, ১১ জুলাই ২০২০  
ক্ষুদ্র বই বিক্রেতাদের বড় সংকট

ছবি: এম এস আই খান

রাজধানীর নীলক্ষেত সুপরিচিত পুরনো বইয়ের দোকানের জন্য। নীলক্ষেতের ফুটপাতেও অস্থায়ী এমন অনেক দোকান আছে যেখানে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, নোট-গাইড বই থেকে শুরু করে চাকরি প্রত্যাশীদের প্রস্তুতি, ক্যারিয়ার বা ভর্তি বিষয়ক, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের প্রয়োজনীয় বই সুলভে পাওয়া যায়। রাজধানীর পল্টন মোড়, বাংলাবাজার ফুটপাতেও এমন বইয়ের দোকান চোখে পড়ে। এই দোকানগুলোর ক্রেতাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ বন্ধ। উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বই বিক্রি। ফলে সংকটে পড়েছেন ফুটপাতের পুরনো বই বিক্রেতারা।

ব্যবসায়িক এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ভাবনায় তারা দিশেহারা। দীর্ঘ লকডাউন শেষে সীমিত পরিসরে সব কিছু খুললেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বই বেচাকেনায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নীলক্ষেতের ফুটপাতের বই বিক্রেতাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন। রোজগারের একমাত্র পথ বন্ধ হওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে। বই বিক্রেতা শরিফ হোসেন বলেন, ‘এই ছোট ব্যবসার ইনকাম দিয়েই আমার পরিবার চালাতে হয়। ভেবেছিলাম রোজার ঈদের পর মার্কেট খুললে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বেচাকেনা খুবই খারাপ। দিনে দুইশ বা তিনশ টাকার বইও অনেক সময় বিক্রি করতে পারি না। এই টাকায় নিজে খাবো কী? পরিবারই বা চালাবো কীভাবে?’

শরিফ হোসেনের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে জানিয়ে বলেন, ‘উপায় নেই। নীলক্ষেতের ক্ষুদ্র বই ব্যবসায়ীদের অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন। এমন চলতে থাকলে কোরবানি ঈদের পর আমাকেও চাঁদপুর চলে যেতে হবে।’

নীলক্ষেতের ফুটপাতের আরেক বই বিক্রেতা মো. খোকন। তিনি বলেন, ‘ফুটপাতে বই বিক্রির এমনিতেই অনেক ঝামেলা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের ব্যবসা করতে হয়। আয়-রোজগারের অন্য কোনো উপায় না থাকায় এভাবেই দোকানদারি করি। লকডাউনের সময় আড়াই মাস দোকান বন্ধ ছিলো। ধার-দেনা করে চলেছি। ভেবেছিলাম, এখন বই বিক্রি করে ঋণ শোধ করবো। কিন্তু বেচাকেনার অবস্থা এতো খারাপ যে, উল্টো আরো ঋণ করে চলতে হচ্ছে।’

কম দামে বিভিন্ন বইয়ের জন্য অনেকেই নির্ভর করেন ফুটপাতের এসব দোকানের উপর। ক্রেতাদের একটি বড় অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও নীলক্ষেতে আসছেন না। সাহিত্যপ্রেমী পড়ুয়ারাও করোনার এই সংকটে ঘর থেকে অপ্রয়োজনে বের হচ্ছেন না। ফলে তৈরি হয়েছে ক্রেতা সংকট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আর নীলক্ষেত যাওয়া হয় না। আগে সপ্তাহে অন্তত একবার ঢুঁ দিতাম। প্রয়োজনীয় বই পেলে কিনতাম।’

করোনা শিক্ষার্থী বা বই পড়ুয়াদের যেমন বিপাকে ফেলেছে, তেমনি মানুষের জ্ঞানের খোরাক মিটিয়ে যারা নিজেদের পেটের খোরাক জোগান তাদেরকেও ফেলেছে সীমাহীন দুর্ভোগে। সময় বদল হওয়া ছাড়া ভাগ্য বদলের আর কি কোনো উপায় নেই? ফুটপাতের ক্ষুদ্র বই বিক্রেতারা খুঁজছেন এই প্রশ্নের উত্তর।

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়