RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৭ ||  ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

উপমহাদেশের বাইরের সিনেমায় ক্রিকেট

রুহুল আমিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৭   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
উপমহাদেশের বাইরের সিনেমায় ক্রিকেট

রুহুল আমিন : ভারতীয় উপমহাদেশে বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে যেগুলো ক্রিকেটের ওপর নির্ভর করে নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় এসব সিনেমা। কারণ উপমহাদেশে ক্রিকেট সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। আর এই কারণে ক্রিকেট নিয়ে সিনেমা হওয়াটাও স্বাভাবিক। শুধু সিনেমা কেন, গল্প উপন্যাসেও ক্রিকেট এসেছে বিভিন্নভাবে। কিন্তু উপমহাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিয়ালে ক্রিকেট এসেছে। ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত উপমহাদেশের বাইরের কয়েকটি সিনেমা ও টেলিভিশন প্রোডাকশন নিয়ে আজকের আয়োজন।

১. ফায়ার ইন ব্যাবিলন (২০১০) : ফায়ার ইন ব্যাবিলন ব্রিটিশ ডকুমেন্টারি সিনেমা। সিনেমাটিতে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ক্রিকেটের  যত রেকর্ড ভেঙেছে তা তুলে ধরা হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কীভাবে পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, সেই গল্প বলা হয়েছে সিনেমাটিতে।  এই সিনেমায় বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ক্যারিবিয়ান খেলোয়াড় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ক্লায়েভ লয়েড, স্যার ভিভ রিচার্ডস, গ্রডন গ্রিনিজ, মাইকেল হোল্ডিংসহ অনেকে। এ ছাড়া এই সিনেমায় অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার অভিনয় করেছেন। সিনেমাটির রচনায় ও পরিচালনায় ছিলেন স্টিভেন রিলে। ২০১১ সালের জামাইকা রেগ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি ইউনেস্কো পুরস্কার জিতে।

সুপরিচিত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ রিচি বেনো, জিওফ্রে বয়কট, ইয়ান বোথাম, সুনীল গাভাস্কার, টনি গ্রেগ ও ডেভিড গাওয়ারসহ অনেকেরও উপস্থিতি ছিল এই সিনেমায়। এ ছাড়া সিনেমাটিতে নেলসন ম্যান্ডেলার একটি ভিডিও ফুটেজ ছিল, যেখানে তিনি সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেট দলের প্রতি তার মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

২.  ওনড্রাস অব্লিভিয়ন (২০০৪) : সিনেমাটি ১১ বছর বয়সি এক কিশোরের ওপর ক্রিকেটের প্রভাব কেমন তা নিয়ে  নির্মিত। সিনেমায় ডেভিড ওয়াজম্যান নামে ১১ বছরের এক ক্রিকেট-পাগল কিশোরের কথা  বলা হয়। আসলে সে তেমন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে না। এদিকে, নতুন প্রতিবেশী হওয়া এক জামাইকান পরিবারও ক্রিকেট ভালোবাসে। স্কুলে হাসিরপাত্র ডেভিডকে ওই প্রতিবেশীরা বেশ কদর করে। ডেভিডের সঙ্গে তাদের ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং ডেভিড ওই প্রতিবেশী পরিবারের মেয়ে ডেনিসের প্রেমে পড়ে। কিন্তু ডেভিডের বাবা-মা তাদের সন্তানের এই বন্ধুত্ব ভাঙতে চান। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও আকর্ষণ তাদের বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখে। সিনেমাটি রচনা ও পরিচালনা করেন পল মরিসন। সিনেমাটি দুটি চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কারও লাভ করে।

৩. দ্য ফাইনাল টেস্ট (১৯৫৩) :  ক্রিকেটের ওপর নির্মিত একটি দুর্দান্ত কমেডি ফিচার ফিল্ম দ্য ফাইনাল টেস্ট। যেখানে স্যাম পালমার নামে এক ক্রিকেটার জীবনের শেষ টেস্ট খেলতে ইংল্যান্ডের ওভাল মাঠে নামবেন। তিনি চেয়েছিলেন, তার ছেলে রেজ্জি তার শেষ ইনিংসটিতে মাঠে উপস্থিত হয়ে সাক্ষী হোক। কিন্তু ছেলে ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আগ্রহী প্রভাবশালী শীর্ষ কবি আলেক্সান্দার হোয়াইটহেডের প্রতি। হোয়াইটহেড আবার ক্রিকেট-পাগল মানুষ। হোয়াইটহেড রেজ্জিকে সঙ্গে নিয়ে ওই ম্যাচ দেখতে মাঠে আসেন। মজার ব্যাপার হলো, এই সময়েই স্যাম শূন্য রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়ানে চলে যান। এই সিনেমায় বিখ্যাত খেলোয়াড় লেন হাটন, ডেনিস কম্পটন ও অ্যালিক বেডসার অভিনয় করেন। টেরেন্স র‌্যাটিগানের রচনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেন অ্যান্থনি। 

৪. বডিলাইন (১৯৮৪) : বডিলাইন অস্ট্রেলিয়ান মিনি টেলিভিশন সিরিজ। আর পুরো বিষয়টি ১৯৩২-৩৩ সালের ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের ওপর নির্মিত। এটি একটি বিখ্যাত ক্রিকেট সিরিজ যেখানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বডিলাইন ক্রিকেটীয় কৌশল অবলম্বন করে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে। সিরিজ চলাকালীন স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান বেশ কয়েকবার আহত হওয়ার পর সিরিজটি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করে। এতে অস্ট্রেলিয়ান টেলিভিশন অভিনেতা গ্রে সুইট ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন। কয়েক পর্বের এই টিভি সিরিজের পরিচালনায় ছিলেন ডেনি লরেন্স, লেক্স ম্যারিনস, জর্জ ও কার্ল শুলজ। 

৫. ইটস নট ক্রিকেট (১৯৪৯) : সিনেমাটি অবশ্যই দেখা উচিত। সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্র হলো ব্রিটিশ আর্মির দুজন গোয়েন্দার। যারা সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বহিষ্কারের পর ‘ব্রাইট অ্যান্ড আর্লি’ নামে একটি প্রাইভেট গোয়েন্দা এজেন্সি খোলার পরিকল্পনা করেন। তারপর তারা এক নারীকে সেক্রেটারি হিসেবে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। একদিন ওই সেক্রেটারির প্রেমিক এক সাপ্তাহিক বন্ধের দিন তাদের সবাইকে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তারা জানতো না ওই ম্যাচের জন্য তারা যে ক্রিকেট বলটি লন্ডন থেকে কিনেছিলেন তার মধ্যে চুরি করে আনা ডায়মন্ড ছিল। আর তার সঙ্গে জড়িত ছিল যুদ্ধাপরাধী অট্টো ফিশ এবং এ কারণেই তাদেরকে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপর কী ঘটে? তা জানতে হলে অবশ্যই সিনেমাটি দেখতে হবে।

৬. প্লেয়িং অ্যাওয়ে (১৯৮৭) :  এই সিনেমায় ইংল্যান্ডের গ্রামের একটি ছোট দল ক্যারিবিয়ান ঐতিহ্যভিত্তিক একটি দলকে বিক্সটনে আমন্ত্রণ জানায় তাদের ‘তৃতীয় বিশ্বের সপ্তাহ’ উৎসবের সমাপ্তি টানার জন্য। এই টেলিভিশন কমেডি সিনেমাটি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়।

৭. হিট ফর সিক্স (২০০৭) : বারবাডিয়ান এই সিনেমায় দেখা যায় কী করে এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার একবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হন এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার জন্য কী রকম লড়াই করেন। আর এর মাধ্যমে তিনি তার বাবার কাছে সম্মান অর্জন করেন, যিনি নিজেও একজন প্রাক্তন খেলোয়াড়। এই সিনেমায় টিনো বেস্ট, এভারটন উইকস, ওয়েস হল ও ডেসমন্ড হেইন্সসহ বেশ কয়েকজন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার অভিনয় করেন।

৮. হ্যান্সি : অ্যা ট্রু স্টোরি (২০০৮) :  এই সিনেমাটি দক্ষিণ  আফ্রিকান প্রাক্তন অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। যে কি না জাতীয় নায়ক থেকে ভারতীয় বাজিকরদের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত হয়ে পড়েন। এই সিনেমায় ক্রোনিয়ের সমস্ত জীবনধারা ও  ম্যাচ পাতানোর বিতর্ক সব কিছু ছিল।

৯. আই নো হাউ ম্যানি রানস ইউ স্কোরড লাস্ট সামার (২০০৮) :  এই সিনেমাটি একজন সিরিয়াল কিলার সম্পর্কে- যে একটি স্থানীয় ক্রিকেট দলের সব সদস্যকে খুন করে তার ক্ষুরধার ক্রিকট গ্লাভস ও ধারালো ক্রিকেট স্টাম্পস দিয়ে। যদিও হরর এই সিনেমার সমালোচনা হয়েছে এবং নেতিবাচক পর্যালোচনা এসেছে বেশি। 

১০. দ্য লেডি ভেনিশেস (১৯৩৮) : প্রকৃতপক্ষে  এই সিনেমাটি ক্রিকেটনির্ভর নয়। আলফ্রেড হিচককের মাস্টার পিস কমিক থ্রিলারটিতে এমন কিছু দৃশ্য আছে যেখানে, দুটি চরিত্র একটি টেস্ট ম্যাচের স্কোর জানতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ এপ্রিল ২০১৭/রুহুল আমিন/রাসেল পারভেজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়