RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭ ||  ১৩ রজব ১৪৪২

শরৎচন্দ্রের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ১৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৫৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২১
শরৎচন্দ্রের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম জানেন না, এমন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। গল্প-উপন্যাস পাঠকদের চিরচেনা এই কথা সাহিত্যিকের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস আজ।

তিনি ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুযারি কলকাতার পাক নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৩৭ সালে যকৃতে ক্যান্সার ও পাকস্থলীতে পচন ধরায় পেটের তীব্র যন্ত্রণা নিয়েই মৃত্যু হয়েছিল তার। অনেকটা তার সৃষ্টি দেবদাস উপন্যাসের চরিত্র দেবদাসেরই মতো। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের মতই জীবনের অবসান ঘটে।
   
সাহিত্যকর্মের কারণে পাঠকের কাছে তিনি কথাশিল্পী হিসেবে অপরাজেয়। বাঙালি পাঠকের কাছে গগনচুম্বি জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তার লেখা বাংলা ছাড়াও বহু ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার একটি নারী ছদ্মনামেও মাঝে মাঝে লিখতেন। সেই ছদ্মনামটি ছিল ‘অনিলা দেবী’।

শরৎ চন্দ্রের ডাক নাম ছিল ‘ন্যাড়া’। আর্থিক সঙ্কটে তার পড়ালেখা এফএ শ্রেণিতেই (বর্তমান আইএ) থেমে গিয়েছিল। ১৮৯৫ সালে মাকে হারানোর পর ১৯০২ সালে বাবাকেও হারান। ১৯০৩ সালে মিয়ানমার যান। এ্যাকাউন্টটেন্ট জেনারেল অফিসে কেরানী পদে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯০৬ সালে শান্তি দেবীকে বিয়ে করেন। ১৯০৭ সালে পুত্র সন্তানের বাবা হন। এ বছরই বিখ্যাত ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘বড় দিদি’ হইচই ফেলে দেয় এবং তিনি রাতারাতি খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন। ১৯০৮ সালে ভয়ঙ্কর প্লেগ রোগে স্ত্রী-পুত্রকে হারান। ১৯১০ সালে আবার বিয়ে করেন। পাত্রী ছিলেন বাল্য বিধবা। তার মোক্ষদা নাম বদলে রাখেন হিরন্ময়ী দেবী। 

১৯১৬ সালে চাকরি বাকরি ছেড়ে সস্ত্রীক হাওড়ার বাসায় ওঠেন। ১৯১৭ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে। এরপর রাজনীতিতেও জড়িয়ে যান শরৎ।  ১৯১৯ সালে ইংরেজ সরকারের রৌলাট আইনের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল করেন।  ১৯২১ সালে চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২৩ সালে নজরুল যখন হুগলী জেলে আমরণ অনশনরত সে সময় শরৎচন্দ্র তাকে বুঝিয়ে অনশন ভঙ্গ করার জন্য ৭ মে জেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু  জেল কর্তৃপক্ষ দেখা করতে দেয়নি।

১৯২৬ সালে তার ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।  তিনি রবীন্দ্রনাথকে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য পত্র মারফত অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

১৯২৯ সালে ঢাকার পশ্চিম বিক্রমপুর যুবক ও ছাত্র সম্মিলনীতে শরৎচন্দ্র সভাপতিত্ব করেন। ওই বছরই উত্তরবঙ্গের রংপুর বঙ্গীয় যুব সম্মিলনীর অধিবেশনে সভাপতির ভাষণ দেন। ১৯৩১ সালে শরৎচন্দ্র কুমিল্লায় যুব সম্মিলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য সম্মেলনের মূল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই বছরের ডিসেম্বর শেষে কলকাতা টাউন হলে প্রবাসী বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৩৬ সালের ঢাকায় উপস্থিত থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মান সূচক ডিলিট উপাধি গ্রহণ করেন এবং ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন।

জীবনের এতো ব্যাস্ততার মধ্যেও শরৎচন্দ্র দু’হাতে লিখে গেছেন।  তার উপন্যাসের সংখ্যা ২৪, ছোটগল্প ১১, নাটক ৪ এবং প্রবন্ধ সংখ্যা ১২।

ঢাকা/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়