Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ১০ ১৪২৮ ||  ০৯ রমজান ১৪৪২

উত্তাল মার্চ: টঙ্গীর বিক্ষোভ মিছিলে সেনাবাহিনীর গুলি

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৩, ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৫:২৫, ৮ মার্চ ২০২১
উত্তাল মার্চ: টঙ্গীর বিক্ষোভ মিছিলে সেনাবাহিনীর গুলি

একাত্তরে হরতালের পক্ষে একটি মিছিল

একাত্তরের ৫ মার্চ। ২ মার্চ থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূচীর শেষদিন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ঐতিহাসিক ৭ মার্চও সমাগত। সঙ্গতকারণে পুরো বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ।

সশস্ত্র সংগ্রামেই একমাত্র মুক্তির পথ, এটা বুঝতে বাঙালি জাতির বাকি রইল না। তাই আন্দোলনের পাশাপাশি সারাদেশেই গোপনে চলে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি।

পহেলা মার্চ ঢাকায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, শহর-বন্দরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অঙ্গুলি হেলনে চলছে সবকিছু। দেশ স্বাধীন না হলেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবকিছু একজনের নিয়ন্ত্রণে, তিনি বঙ্গবন্ধু।

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে একাত্তরের ৫ মার্চ শুক্রবারের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- ‘আজও ছ’টা-দুটো হরতাল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হরতালের দিনগুলোতে বেতন পাওয়ার সুবিধার জন্য এবং অতিজরুরী কাজকর্ম চালানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি সব অফিস দুপুর আড়াইটা থেকে চারটা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রেশন দোকানও ওই সময়ে খোলা। ব্যাংকও তাই। আড়াইটা চারটার মধ্যে টাকা তোলা যাবে। তবে দেড় হাজার টাকার বেশি নয়। বিকেলে ব্যাংক খোলা- ভাবতে মজাই লাগছে। শেখ মুজিবের একেকটা নির্দেশ সব কেমন ওলটপালট খেয়ে যাচ্ছে। জরুরী সার্ভিস হিসেবে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, এ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তারের গাড়ি, সংবাদপত্র ও তাদের গাড়ি, পানি, বিদ্যুত, টেলিফোন, দমকল, মেথর ও আবর্জনা ফেলা ট্রাক- এগুলোকে হরতাল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।  আজ মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থণা।

একাত্তরের এই দিনটিতে টঙ্গীতে বর্বরতার উদাহরণ তৈরি করে পাক সেনাবাহিনী। হরতাল কর্মসূচী পালনকালে টঙ্গীতে সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে ৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়। এ ছাড়াও খুলনায় ২ জন এবং রাজশাহীতে ১ জন নিহত হয়। টঙ্গীতে ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক স্বাধিকার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম থেকে এক বিশাল লাঠি মিছিল বের হয়।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়।  দলের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এদিন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট ও  দেশের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের চিত্র তুলে ধরেন। যে কোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগ একটি কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করে।

অন্যদিকে এইদিন তাহরিক-ই-ইশতিকলাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব) আসগর খান পাকিস্তানের সংহতি বিপন্ন উল্লেখ করে অবিলম্বে শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

ঢাকা/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়