Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮ ||  ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

রূপকথার কিংবদন্তির প্রয়াণ দিবস

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ৩০ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১২:২১, ৩০ মার্চ ২০২১
রূপকথার কিংবদন্তির প্রয়াণ দিবস

শৈশবে রূপকথার গল্প শুনে ভাল লাগেনি, এমন কেউ আছেন বলে মনে হয় না। বাংলা ভাষায় রূপকথার রচয়িতা এবং সাংগ্রহক হিসাবে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ইতিহাস হয়ে আছেন।

জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে এবং দাদামশায়ের থলে- এসব বইয়ের কথা সামনে এলে তার নামটিই সামনে এসে দাঁড়ায়। কাঁকণমালা, কাঞ্চনমালা, কিরণমালা, ঘুমন্ত পুরী, দুধের সাগর, নীলকমল আর লালকমল, শীত বসন্ত, সাত ভাই চম্পা- এমন অসংখ্য রূপকথার গল্প তিনি আমাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ৬৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৫৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি কলকাতায় মারা যান।

রূপকথার এই কিংবদন্তির জন্ম ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল ঢাকা জেলার সাভারের উলাইল গ্রামে।  দক্ষিণারঞ্জনের পরিবারের আদি বাস ছিল বরিশালের বাকলা মহকুমা অন্তর্গত চন্দ্রদ্বীপ গ্রামে।  বাবা রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছিলেন একজন স্বভাবকবি। মায়ের নাম কুসুমময়ী। মাত্র ৯ বছর বয়সেই মাকে হারান। শৈশবে বাবার মাধ্যমেই সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন দক্ষিণারঞ্জন। ১০ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার কিশোরীমোহন হাইস্কুলে। প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মুর্শিদাবাদের বহরমপুর হাইস্কুল থেকে। এরপর পড়াশোনা করেন বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে। 

ধরাবাঁধা পড়ালেখার প্রতি খুবই অনীহা ছিল দক্ষিণারঞ্জনের। এ সময় বাবার মৃত্যুর কারণে পিসিমার সঙ্গে মুর্শিদাবাদ ত্যাগ করে টাঙ্গাইল চলে যাওয়ায় তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটে। পিসিমার কাছে টাঙ্গাইলে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরে তাদের জমিদারির ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে থাকতে শুরু করেন সেই সময় দশ বছর ধরে বাংলার লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্যের সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। সে সূত্রেই রূপকথার ভাণ্ডার গড়ে যান দক্ষিণারঞ্জন।

দক্ষিণারঞ্জন খুব ভালো ছবি আঁকতেন। নিজের বইয়ের ছবি এবং প্রচ্ছদগুলো সব সময় তিনি নিজেই আঁকতেন। দক্ষিণারঞ্জন ছিলেন একজন অসাধারণ কারুশিল্পীও। কলকাতার পূর্ণদাস রোডে তাঁর যে বাসভবন, সেখানকার দরজা-জানালার কাঠের শিল্পকর্ম তিনি নিজের হাতেই করেছেন।

তিনি মাসিক ‘সুধা’ নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেছিলেন। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়। দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। ‘উত্থান’ এবং ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ ছাড়া তার যেসব বই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সেগুলো হলো ‘মা-বাবা আহুতি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’, ‘চারু -হারু’, ‘দাদামশায়ের থলে’, ‘খোকা খুকুর খেলা’, ‘আমালবই’, ‘সরলচণ্ডী’, ‘পূজার কথা’, ‘ফার্স্টবয়’, ‘উৎপল ও রবি’, ‘কিশোরদের মন’, ‘কর্মের মূর্তি’, ‘বাংলার সোনার ছেলে’, ‘সবুজ লেখা’, ‘চিরদিনের রূপকথা’, ‘আশীর্বাদ’, ‘আশীর্বাণী’ ইত্যাদি। 

ঢাকা/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়