Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ফ্যাশন ডিজাইনে ভিন্নতা নিয়ে আরাফাত

গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৭:০৪, ২২ এপ্রিল ২০২১
ফ্যাশন ডিজাইনে ভিন্নতা নিয়ে আরাফাত

ছবি: মাহফুজ কল্প, মেকাপ: সায়েম রহমান, মডেল: ইফতেখার, শান্তা

মো. আরাফাত ইসলাম। আগ্রহ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে। পড়াশোনার জন্য বেছে নিয়েছেন এই বিষয়টি৷ বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিএসসি ইন ফ্যাশন টেকনোলজি বিভাগে পড়াশোনা করছেন। আরাফাতের নিজের তৈরি ভিন্নধর্মী এক পোশাক নিয়ে জানাচ্ছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত। 

আরাফাতের বাবা ছিলেন একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বাবা প্রবাসে থাকায় মায়ের আদরেই বেশিভাগ সময় বড় হয়েছেন। চট্টগ্রামের গ্রামীণ পরিবেশেই রূপকথার গল্পের মতো কেটেছে তার শৈশব। স্কুলজীবন কেটেছে হাটহাজারীর পার্বতী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতির জন্য পড়াশোনা শুরু করেন আরাফাত। লক্ষ্য ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। 

ফ্যাশন ডিজাইনে পড়া শুরু হলো কীভাবে, জানতে চাইলে আরাফাত বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিয়েছি৷ কিন্তু সুযোগ হয়নি৷ আমাকে যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হচ্ছে, তাই সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছি টেক্সটাইলে ভর্তি হবো। কিন্তু ভর্তি হয়েছি ফ্যাশন ডিজাইনে৷ আগ্রহ ছিল, তবে খুব বেশি না।  ক্লাস নাইনে সম্ভবত ‘বিজিএমইএ’-এর একটা ভিডিও বিজ্ঞাপনে চোখ আঁটকে গিয়েছিল। সেখান থেকে আগ্রহটা জন্মে৷ এখন যত পড়ছি, ততই নতুন কিছু জানতে পারছি।’ 

বিবি রাসেলের কাজে সবসময়ই একটা নতুনত্ব ছোঁয়া পেতেন আরাফাত। বিবি রাসেলের কাজ দেখেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বন্ধুর সুবাদে একবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল আরাফাতের। খাদি আর গামছা নিয়ে কাজ করছি শুনে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন তিনি, জানান আরাফাত। ছোটবেলায় আরাফাতের মা প্রায় সময় নকশী কাঁথা বানাতেন ঘরের জন্য, দেওয়ালের জন্য ওয়ালমার্ট বুনতেন৷ তা দেখে ছোটবেলা থেকেই চমকে উঠতো আরাফাত। 

নিজের কাজ সম্পর্কে ভাবনা আসলো যেভাবে, সে সম্পর্কে বলেন, ‘এখন ফ্যাশন ডিজাইনে পড়ছি, অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে প্রায় সময় ডিজাইন করতে হয়। এবার ভাবলাম পাঞ্জাবি আর শাড়িতে নকশী কাঁথার ফোড় দিয়ে কাপড় ডিজাইন করবো৷ বিষয়টা আমার বেস্টফ্রেন্ডের সঙ্গে শেয়ার করি। এবং পজিটিভ একটা উত্তর আসে। একজনের সম্মতি যেহেতু পেলাম, কাজ শেষ হলে হয়তো অনেকের সম্মতি পাবো। তাই ভেবে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিকে ফোকাসে রেখে আমি কাজটা শুরু করার পরিকল্পনা করি।’ 

‘এখন প্রতিযোগিতার সময়। চারদিকে প্রতিদিন কত নতুন নতুন ফ্যাশনের, ডিজাইনের কাপড় বেরোচ্ছে। পত্রিকা খুললে, বড় বড় ফ্যাশন শো দেখলে তো বুঝতে পারা যায় যে কত কাজ হচ্ছে৷ তাই এখানে টিকে থাকতে হলে নতুন কিছু বিশেষত্ব রাখতে হবে৷ আমি ভাবলাম নিজের সংস্কৃতি নিয়ে কাজটা করবো৷ সবদিক থেকে খবর নিলাম, ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলো পড়ে জানলাম, নকশী কাঁথার ফোঁড় শাড়ির কাজ কম হয়েছে, কোনো মেশিনের সাহায্য না নিয়ে আসল বিষয়টা উঠে আসুক৷ যেমন আগেকার দিনে বর্ষা আসলে ঘরে ঘরে নকশী কাঁথা বোনার চল ছিল৷’ 

তিনি আরও বলেন, ‘খাদি আর গামছা দিয়েই পাঞ্জাবি ও শাড়ির ডিজাইনটা করেছি এবং মূল ফোকাসটা রেখেছিলাম নকশী কাঁথার লুকটা যেনো আসে৷ নকশা করে মাকে দিলাম, মা সুই-সুতো দিয়ে শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে নকশী কাঁথার লুকটা এনে দিলেন। আমার কাজটির ভিন্নতা আছে। পুরনোকে নতুনের সঙ্গে জুড়ে দিলে একটা নতুন আবহ তৈরি হয়। পোশাকের ক্ষেত্রে খাদি বা গামছার আলাদা আলাদা ব্যবহার হয়েছে আগে৷ তবে আমি দুটোকে একসঙ্গে রেখে একটি ভিন্ন লুক আনার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি শাড়ির পাড়ে সুই-সুতো দিয়ে নকশী কাঁথার ফোঁড় এনেছি। মেশিনের চেয়ে কিছু পোশাক হাতের কাজে সুন্দর করে ফেলে সেটাকে বার বার জানাবার চেষ্টা আমার ডিজাইনে৷ মানুষ পোশাকের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভিন্নতা চায়। সেক্ষেত্রে ভিন্নতাটা আছে এই শাড়ি-পাঞ্জাবিতে। যা আপনাকে বাঙালিয়ানা লুক এনে দিতে পারবে। সব অনুষ্ঠানে এই পোশাক পরা যাবে।’ 

ভবিষ্যতে পরিকল্পনা সম্পর্কে আরাফাত বরেন, ‘ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে যেহেতু পড়ছি। এটিই ধ্যান-জ্ঞান। তাই আমরা দুই বন্ধু মিলে একটি অনলাইন ফ্যাশন হাউজ তৈরি করেছি। একেবারে পুরনো একটি শব্দকে আমরা নাম হিসেবে নিয়েছি ‘মোহর’। সেটি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। মোহরে আমরা রাখছি সম্পূর্ণ নিজেদের ডিজাইনের পোশাক। সেটির পাশাপাশি ‘ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং’কে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে আছে।’

ঢাকা/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়