Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১০ ১৪২৮ ||  ১০ জিলক্বদ ১৪৪২

রমজান জাকাত আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়

এমদাদুল হক তাসনিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ৫ মে ২০২১   আপডেট: ১৩:০৪, ৫ মে ২০২১
রমজান জাকাত আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়

ইবাদতের বসন্তকাল মাহে রমজান। জীবনের সব গুনাহ মাফ ও জান্নাত অর্জনের মাস এটি। রমজানকে জাকাত আদায়ের মাসও বলা হয়। যদিও জাকাত আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জাকাত আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময় হলো এই রমজান। কেননা রমজান মাসে জাকাত আদায় বা দান-সদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি লাভ হয়।

জাকাত ইসলামের ৫টি ভিত্তিসমূহের অন্যতম একটি। ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহের অন্যতম হলো জাকাত। ইসলামী বিশ্বকোষ-এর ভাষ্যমতে, আল কোরআনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আল কোরআনে প্রত্যক্ষভাবে ৩২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে নামাজ ও জাকাতের কথা একত্রে উল্লেখ হয়েছে ২৮ বার। যেমন আল্লাহ  তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৩)

জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া। পারিভাষিক অর্থ হলো, কোনো অসচ্ছল গরিব মুসলমানকে বা মুসলমানদের কোনো প্রকার বিনিময় ও শর্ত ছাড়া যে সব মালের উপর জাকাত প্রযোজ্য ওই মালের [বর্তমান বাজারের বিক্রয় মূল্যের] চল্লিশ ভাগের এক অংশের মালিক বানানো। (আদ্দুরুল মুখতার ২ : ২৫৬) 

জাকাতের হকদার

মহান আল্লাহ বলেন-
১. নিঃস্ব
২. অভাবগ্রস্ত
৩. তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য
৪. যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য
৫. দাসমুক্তির জন্য
৬. ঋণ ভারাক্রান্তদের
৭. মুজাহিদ এবং 
৮. মুসাফিরের জন্য। (সুরা তাওবা : আয়াত ৬০) 

যাদের উপর জাকাত ফরজ

নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক সকল মুসলিম নর-নারীর উপর জাকাত প্রদান করা ফরজ। কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর চাঁদের হিসাবে পরিপূর্ণ একবছর অতিবাহিত হলে তার উপর পূর্ববর্তী বছরের জাকাত প্রদান করা ফরজ।

জাকাতের নিসাব

ঋণ ও মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য সমপরিমাণ নগদ টাকা বা ব্যবসায়ের মালের মালিক হলে ৪০ ভাগের এক ভাগ বা শতকরা আড়াই টাকা হারে জাকাত আদায় করতে হয়। (আলমগিরি ১ : ১৮৭-১৯২) 

জাকাত আদায়ের পুরস্কার

মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎ কাজ করেছে,  নামাজ প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নাই এবং তারা দুঃখিত হবে না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৭)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো বান্দা যখন জাকাত আদায় করেন, তখন আল্লাহর আদেশে একজন ফেরেশতা তার জন্য এভাবে দোয়া করতে থাকেন- হে আল্লাহ! আপনার পথে যে দান-সদাকা করে, জাকাত দেয়, তার সম্পদকে আপনি বৃদ্ধি করে দিন, আর যে ব্যক্তি সম্পদ ধরে রাখে [জাকাত দেয় না] তার সম্পদ আপনি ছিনিয়ে নেন। (সহিহ বুখারি) 

দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাকাত শ্রেষ্ঠতর উপায়। ধনী লোকেরা অসহায়দের জাকাত প্রদানের ফলে সমাজের গরিব-নিঃস্ব ব্যক্তিরা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি পায় এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। ধনী মুসলমানদের অর্থসম্পদের মধ্যে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী গরিবের নির্দিষ্ট পরিমাণ অধিকার রয়েছে। অন্যের এ ন্যায্য প্রাপ্য প্রদান করলেই অবশিষ্ট ধনসম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। রমজান মাসে ধনী লোকেরা দরিদ্রদের জাকাত প্রদানের ফলে উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যে লেনদেন হয় এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথার্থই বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের সেতু।’ (সহিহ মুসলিম) অভাবগ্রস্ত, অসহায়, এতিম, বিপদ ও দায়গ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার মতো মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, মাহে রমজান হলো জাকাত আদায় এবং অভাবী-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময়।


নির্বাহী সম্পাদক: মাসিক ইসলামী বার্তা, অর্থ সম্পাদক: বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম
 

ঢাকা/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়