Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১০ ১৪২৮ ||  ১০ জিলক্বদ ১৪৪২

মমতার জয়ের নেপথ্য নায়ক কে এই প্রশান্ত কিশোর

খালেদ সাইফুল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৭ মে ২০২১   আপডেট: ২৩:১৭, ৭ মে ২০২১
মমতার জয়ের নেপথ্য নায়ক কে এই প্রশান্ত কিশোর

টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিজেপির উত্থান অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। মোদি-অমিত শাহদের দৌরাত্ম্যে ভারতজুড়ে পদ্মফুলের যে জয়জয়কার শুরু হয়েছিল তার হাওয়া বাংলায়ও লেগেছিল। তবুও কী এমন কৌশলে মমতা বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করলেন? গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এই ভূমিধস জয়ের কৌশল কি মমতা কিংবা তৃণমূলের একার মাথা থেকেই বেরিয়েছে?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো- না। মমতার বিজয়ের নেপথ্যের নায়ক হিসেবে যিনি রাজনৈতিক খেলা খেলিয়েছেন তিনি আর কেউ নন- প্রশান্ত কিশোর। রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে সুপরিচিত প্রশান্ত কিশোর পরিচিতি পেয়েছেন ‘কিংমেকার’ হিসেবে। ভারতের রাজনীতিতে পদ্মফুলের উত্থানের পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি সেই প্রশান্ত কিশোরই বাংলায় পদ্মফুলের ক্ষমতার খোয়াব মাটিতে মিশিয়ে মমতার জয়ের নেপথ্য নায়ক। ১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর অবস্থাদৃষ্টে গদি বাঁচাতে তাকেই নিজের নির্বাচনী পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কে এই পিকে? প্রশান্ত কিশোরের জন্ম বিহারের রোহতাস জেলার কোরান গ্রামে। হায়দরাবাদ থেকে ইঞ্জিয়ারিং পড়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি নিয়ে তিনি চলে যান আফ্রিকায়। সেখানে ৮ বছর চাকরি শেষে ২০১১  সালে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন ‘সিটিজেন্স ফর একাউন্টেবল গভর্নমেন্ট’। পরের বছর ২০১২ সাল থেকে তিনি তার রাজনৈতিক কারিশমা দেখানো শুরু করেন। ২০১২ সালে গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনে মোদির নির্বাচনী পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির বিজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেন পিকে। ‘চায়ে পে চর্চা’, ‘রান ফর ইউনিটি’, ‘মাস্টার স্ট্রোক’-এর মতো প্রকল্পগুলো মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখে।

কিন্তু দলের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে মোদিকে ছেড়ে ২০১৫ সালে প্রশান্ত যোগ দেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সঙ্গে। তার তৈরি করা কৌশলেই বিহারে বিধানসভা ও লোকসভায় ব্যাপক জয় পায় নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে মহাজোট। ২০১৬ সালে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্যাপ্টেন অমরেন্দ সিংহের বিজয়ে বড় ভূমিকা ছিল পিকে'র। কিন্তু পরের বছর উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে কংগ্রেসকে জয় এনে দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

এরপর অন্ধ্র প্রদেশের জগনমোহন রেড্ডির হয়ে কাজ করেন তিনি। ২০১৭ সালের মে মাসে জগনমোহনের বিশেষ উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হন প্রশান্ত। সেখানে ওয়াইএসআর কংগ্রেস লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিপুল জয় পায়। লোকসভা নির্বাচনে ২৫টি আসনেই জগনমোহনের দল বাজিমাত করে। বিধানসভা নির্বাচনে জগনমোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেসের কাছে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে চন্দ্রবাবু নাইড়ুর তেলেগু দেশম পার্টি। ১৭৫টির মধ্যে ১৫০ আসনে জয়লাভ করে জগনের দল। 

নরেন্দ্র মোদি, নীতিশ কুমার কিংবা কংগ্রেস— যখনই যার হাত ধরেছেন, কার্যত সোনা ফলিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এই ধারাবাহিক সাফল্যই মমতাকে তার দ্বারস্থ হতে বাধ্য করে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে থাকা নীতিশ কুমারের সঙ্গে প্রশান্তর দূরত্ব বাড়তে থাকে। ফলে তৃণমূলের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি এই বিলের বিপক্ষে বাংলার জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলাসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক গেম খেলেন। কেন্দ্র ধরে ধরে সমীক্ষা করে তিনি সমস্যা ও সমাধান মমতার কান অবধি পৌঁছে দেন। ‘দিদিকে বলো’, ‘দুয়ারে সরকার’, ‘পাড়ায় সমাধানে’র মতো কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একেবারে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। ফলে দুঃসময়ে থেকেও বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করেছে টিএমসি।

কিন্তু ধারাবাহিক সাফল্যের পরও এবার পেশা বদলের ঘোষণা দিয়েছেন পিকে। কিন্তু কেনো? এ প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত তিনিই ভালো দিতে পারবেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এবার নিজেই সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে পারেন প্রশান্ত। 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়