ঢাকা     শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯ ||  ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

পাখির কলরবে মুখরিত জবই বিল

মাহফুজ ফারুক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ১৩ জানুয়ারি ২০২২  
পাখির কলরবে মুখরিত জবই বিল

জবই বিল। নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অবস্থিত এ বিলের অবস্থান জেলা শহর থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দূরে। বিল-ঝিল সাধারণত মাছের জন্য বিখ্যাত হলেও জবই বিল বিখ্যাত পাখির জন্য। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এই বিলে পাখির বিচরণ চোখে পড়ার মতো।

জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার জরিপ মতে, চলতি শীত মৌসুমে এ বিলে প্রায় ১০ হাজার পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শামুক খোল, পানকৌড়ি, কানি বক, বেগুনি বক প্রভৃতি দেশি প্রজাতির পাশাপাশি অতিথি পাখি হিসেবে পাতি-সরালি, লালঝুঁটি ভূতিহাঁস, প্রশান্ত সোনাগিরিয়া, চখাচখিসহ ২৮ প্রকার পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠেছে জবই বিল।

অতীতে মাছ ও পাখির জন্য জবই বিলের সুনাম ছিল দেশজোড়া। তবে মাঝখানে কয়েক দশক পাখির তেমন দেখা মিলত না। আশার বিষয় নতুন করে গত ৪-৫ বছর ধরে আবারো সেই পূর্বের রূপে ধরা পড়তে শুরু করেছে এ বিল। প্রতিবছরই বাড়ছে পাখির সংখ্যা। জবই বিলে ঝিনুকসহ অন্যান্য উদ্ভিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যা পাখির খাদ্য হিসেবে উপাদেয়। এ জন্য অন্যান্য বিলের তুলনায় এ বিলের প্রতি তাদের বাড়তি আগ্রহ তৈরী হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বিলের পানি আর মুক্ত আকাশে পাখিদের অবাধ ওড়াওড়ি দৃষ্টি কেড়েছে পর্যটকদের। পাখি দেখার জন্য প্রতিদিনই বিলে ভিড় করছেন দূর থেকে আসা অসংখ্য দর্শনার্থী। রংপুর থেকে পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘চিড়িয়াখানা এবং বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে অনেক রকম পাখি দেখেছি। কিন্তু এখানে পাখি দেখার একটা আলাদা আনন্দ আছে। কারণ এখানে মুক্তভাবে বিচরণ করা পাখিদের সরাসরি দেখতে পাচ্ছি। এ জন্যই মূলত এসেছি।’ 

নওগাঁর আশড়ন্দ বাজার থেকে পাখি দেখতে এসে ফাহাদ ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে খুব কাছেই এই বিল। আমি প্রায়ই আসি। কারণ পাখি দেখতে ভালো লাগে। তাছাড়া পরিচিতি অনেকেই এ বিলে পাখি দেখতে এসে ফোন করেন। তাদের সাথে দেখা করতে এবং তাদেরকে পাখি দেখানোর জন্যও মাঝে মাঝে আসি।’

জবই বিল জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. সোহানুর রহমান সবুজ জানান, ‘প্রতি বছর শীত মৌসুমে এই বিলে পাখির সংখ্যা বেড়ে যায়। এখানে পাখি শিকার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হওয়ায় পাখিদের আস্থা তৈরী হয়েছে। সে জন্য প্রতি বছরই অতিথি পাখির সংখ্যা বাড়ছে।’ তাঁর মতে, সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথি পাখিদের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে জবই বিল ব্যবহার হচ্ছে। এ বিলে কিছু দিন থাকার পর তারা অন্য দেশে পাড়ি জমায়।

সবুজ আরো বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার এমপি’র সহযোগিতায় এ বিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি এবং এ ক্ষেত্রে আমরা সবার সাড়া পাচ্ছি।’

সাপাহার-আশড়ন্দ বাজার সড়কের জবই গ্রাম পার হয়ে এ বিলের অবস্থান হওয়ায় বিলটি পরিচিতি পেয়েছে জবই বিল নামে। মূলত ডুমরইল, বোরা মির্জাপুর, মাইল ও কালিন্দর এ চারটি বিলের সমন্বয়ে গঠিত এই বিল। বিলে দেশি-বিদেশি পাখির সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের বিচরণ আরো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ করার জন্য বিলের নির্দিষ্ট অংশে ইকো-ট্যুরিজম বা পাখিদের আলাদা জোন ঘোষণার দাবি এ অঞ্চলের পাখিপ্রেমীদের।

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়