ঢাকা     রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৯ ১৪২৯ ||  ০৩ জিলহজ ১৪৪৩

শিল্পাচার্যের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৫, ২৮ মে ২০২২  
শিল্পাচার্যের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী

যার শ্রম ও ত্যাগে এ দেশে চারু ও কারু শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তিনিই এ দেশে চারু ও কারুশিল্পের জনক। শিল্পাচার্যের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৭৬ সালের ২৮ মে  পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার জন্ম ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়।

তিনি বাংলাদেশের শিল্প-আন্দোলনের পথিকৃত। এদেশের শিল্প-আন্দোলনকে বহুমুখী সৃজন ও কর্মধারা দিয়ে সঞ্জীবিত করেছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তার বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি যে কাউকে অনুপ্রাণিত করে। 

জয়নুল খুব ছোট থেকেই ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন।  পাখির বাসা, পাখি, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফল এসব এঁকে মা-বাবাকে দেখাতেন।  ছবির প্রতি এই আগ্রহ কিশোর বয়সেই কলকাতা নিয়ে যায় তাকে।  বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ পুলিশের অল্প বেতনের কর্মচারী। কলকাতায় পড়ানোর মতো অর্থও ছিল না তার। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও তার জেদ ছিলো অনমনীয়। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। 

বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে তার প্রচেষ্টা ছিল আমৃত্যু। দেশের চিত্রকরদের মধ্যে তিনি শিল্পগুরু হিসাবে বিবেচিত। ১৯৭৪ সালে তার আঁকা ‘মনপুরা-৭০’দুর্ভিক্ষের চিত্রটি আজো সেরা। তার বিখ্যাত শিল্পকর্ম অনেক। ধারণা করা হয় তার চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে তার ৮০৭টি শিল্পকর্ম। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে রয়েছে আরো প্রায় ৫০০ চিত্রকর্ম। ময়মনসিংহের সংগ্রহশালায় রয়েছে ৬২টি চিত্রকর্ম। আর তার পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে চার শতাধিক চিত্রকর্ম। 

জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বেই এদেশে আর্টের যাত্রা শুরু। ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিক্যাল স্কুলের একটি পুরনো বাড়িতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হয়। জয়নুল আবেদিন ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক। ১৯৫১ সালে এটি সেগুনবাগিচায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৬ সালে শাহবাগে স্থানান্তর করার পর ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম শ্রেণির সরকারি কলেজের স্বীকৃতি পায়। নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়। এটিই আজকের বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়। জয়নুল আবেদিন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই সরকারি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। তার নামে চারুকলা বিভাগে একটি গ্যালারি রয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ৩৫ নম্বর গ্যালারিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চিত্রশালা স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া জয়নুল আবেদীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর ও ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন।

/টিপু/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়