ঢাকা     শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২১ ১৪২৯

রাজধানীতে দশ টাকায় ‘গরিবের বাজার’ 

মুজাহিদ বিল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৫, ৮ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৪:৩৭, ৮ অক্টোবর ২০২২
রাজধানীতে দশ টাকায় ‘গরিবের বাজার’ 

বুড়িগঙ্গায় নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করেন সুমন পাল। পরিবার নিয়ে থাকেন ওয়াইজঘাট। বাজার করতে এসেছেন পুরান ঢাকার কচুবাজারে। ছোট্ট পাটের ব্যাগে কিনেছেন আলু, পেঁয়াজ, মরিচ এবং কদু। এ জন্য সবজিপ্রতি  তার খরচ হয়েছে মাত্র দশ টাকা!

ভাবছেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে এ কি করে সম্ভব; যেখানে একশ গ্রাম মরিচ মেলে না এই টাকায়। আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, লেবু, আদা, রসুন, কলা, শসা, ঢেড়শ, কদু, ঝিঙে, লাউ, টমেটো, বরবটি, করলা, শিম, মিষ্টিকুমড়া, মুলা, কাকরোলসহ সব ধরনের সবজি মাত্র দশ টাকায় পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব, যদিও আপনি চাইলেই সেগুলো বস্তায় ভরে কিনতে পারবেন না। এমনকি কেজি দরেও সেগুলো কেনা যাবে না। মাছবাজারে মাছের ভাগার মতো বিক্রেতা এই বাজারে সবজি ভাগ করে বিক্রি করেন। সদরঘাট কচুবাজারে অবস্থিত বাজারটি ‘গরিবের বাজার’ হিসেবেও পরিচিত।

কচুবাজারের বেশিরভাগ ক্রেতা নিম্নবিত্ত। এখানে যারা বাজার করতে আসেন বেশিরভাগ রিকশা-ভ্যানচালক, সদরঘাটের নৌকার মাঝি, শ্রমিক, মজুর এবং ভিক্ষুক। বাজারের বেশিরভাগ বিক্রেতা নারী ও শিশু।

কচুবাজার ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ সবজি ভালো সবজি থেকে বাছাই করার সময় ফেলে দেওয়া আধপচা। প্রধানত সবজিগুলো সংগ্রহ করা হয় আড়ত থেকে। বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি নিয়ে সদরঘাটে যেসব লঞ্চ আসে, সেখান থেকে বিক্রির পর যে সবজি অবশিষ্ট থাকে সেগুলোই বিক্রেতারা কুড়িয়ে আনেন। এরপর সবজির পচা অংশ কেটে ফেলে দিয়ে বিক্রি করেন।  

কবে কখন এই বাজার শুরু হয়েছিল সঠিক তথ্য জানা যায় না। তবে লোকমুখে শোনা যায়, শ্যামবাজার শুরুর পর থেকেই বসছে এই বাজার।

বিভিন্ন লঞ্চ থেকে সবজি কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করতে এসেছে পথশিশু নাসিম। তার ভাষ্য অনুযায়ী এখন আর আগের মতো লাভ হয় না। আগে পাইকাররা একটু নষ্ট মনে করলেই সবজি ফেলে দিতো, এখন দেয় না। ‘এহন আগের নাহাল তরকারি পাওয়া যায় না, সারাদিন কুড়াইয়া ১০০-২০০ টাহাও বেচবার পাই না। আমাগোরে কেউ দেখোনের নাই। মাইনসের কাছে টাকা চাইলে কয়- নেশা করবি। বাপ নাই, মাও নাই। এই বাজারেই ভরসা।’ বলে নাসিম। 

বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন ভ্যানচালক মজিদ রহমান। রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা হয় তার। তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে থাকেন সূত্রাপুর। ভ্যান চালিয়ে দিনে ৩০০-৪০০ টাকা পান। মজিদ বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যেই দাম! একটা কিনলে আরেকটার টাকা থাকে না। কেমনে দিন কাটামু বউ-পোলা লইয়া। এত দামে তো আর কিনবার পাই না এইজন্য এইনেই আসি। এইন থেইক্কাই কিন্না নেই।

প্রায় ১০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করেন বরিশালের সীমা আক্তার। সীমা বলেন, এহন আর আগের মতো লাভ নাই। দশ টাকায় কি পাওয়া যায় কন? সব কিছুরই দাম বাড়ছে। মানুষের এহন অভাব, এখন খুব মানুষ আহে আমাগোর বাজারে। তারপরও লাভ থাহে না।  

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়