RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার জরুরি: ডা. মনিলাল

আরিফ সাওন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৮, ৬ মে ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার জরুরি: ডা. মনিলাল

করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ব্যবহার করা এখন সবার জন‌্য খুবই জরুরি।  কারণ মাস্ক ব্যবহার করলে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে সহজে ছড়াতে পারবে না।  যিনি ভাইরাসে আক্রান্ত তিনিতো পরবেন-ই, যিনি আক্রান্ত নন, তিনিও আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাস্ক পরবেন।

করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপে এ পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু।

তিনি রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান। এছাড়া তিনি কোভিড ডেডিকেটেড এই হাসপাতালের ‘কোভিড-১৯’ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতিও।

মাস্ক ব্যবহার কেন জরুরি জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘দুই ব‌্যক্তির মধ‌্য যদি ৬ ফিট দুরত্ব থাকে তাহলে ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।  করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-নিশ্বাসের সঙ্গে যে ভাইরাস বের হয়, মুখে মাস্ক থাকলে তা বেশি দূরে যেতে পারে না। ’

সাধারণ মাস্ক ভাইরাস ২৫ শতাংশ ডিটেক্ট করে, আর সার্জিক্যাল বা মেডিক্যাল মাস্ক তা ৫০ শতাংশ কেসে করোনার সংক্রমণ ডিটেক্ট করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

একটি উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ বলেন, ‘ধরুন, মুখে কাপড় রেখে তার ভেতর দিয়ে যদি ধোঁয়া বের করা হয়, তা কিন্তু কাপড়ের সঙ্গে থাকে বা আশপাশে থাকে।  আর মুখে যদি কিছু না থাকে, সরাসরি মুখ দিয়ে যদি সিগারেটের ধোঁয়া বের করা হয়- তা কিন্তু অনেক দূর পর্যন্ত যায়।  কাজেই হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার বজায় রাখতে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে।  যাতে করে একজন থেকে আরেকজনে ভাইরাস না ছড়ায়।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রোগীরা হাসপাতালে যে মাস্ক ব‌্যবহার করেন, সেটি মেডিক্যাল মাস্ক।  কিন্তু চিকিৎসকদের প্রটেকশন আরও বেশি দরকার।  কারণ রোগী আক্রান্ত হয়েছেন, চিকিৎসক নন।  তাই রোগী যাতে হাঁচি-কাশি দিয়ে চিকিৎসককে আক্রান্ত না করেন বা পরিবেশে না ছড়াতে পারেন, সেজন্য মেডিক্যাল মাস্ক ব‌্যবহার করা হয়।  এক্ষেত্রে শুধু বেডে নয়, হাসপাতালের ভেতরেও রোগীকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।’

‘ধরুন মুগদা হাসপাতালে সব রোগীর মুখে মাস্ক নেই।  তারা যে নিশ্বাস নেবে এটা আশপাশে ছড়াবে না? তাহলে অন্যরা কাজ করবে কীভাবে? এখানে যে শুধু মাস্ক পরে চিকিৎসকরা আসবে, তা না। এখানে যারা প্রশাসনে আছেন, যারা সংশ্লিষ্ট আছেন, যারা ম্যানেজমেন্টে আছেন সবাই আসছেন; ওয়ার্ড মাস্টার, স্টাফ নার্স, বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় থাকে। কাজেই সবার মাস্ক পরতে হবে।  যারা আসবেন তাদেরও মাস্ক পরেই আসতে হবে’।

‘মাস্ক ফর অল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন সবারই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এটা অনেক দেশে মেন্ডেটরি করে দিয়েছে, আইন করে দিয়েছে। কাজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে আমাদের সবাইকেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’

 

ঢাকা/সাওন/জেডআর

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়