ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটিতে লোকবল সংকট, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

হাসিবুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৩ জুলাই ২০২০  

বাংলাদেশে নাক, কান ও গলার জন্য ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০০ রোগীর ব্যবস্থাপনাপত্র ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।  

দেশে দরিদ্র রোগীরাই বেশি চিকিৎসা নেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি হাসপাতালে। চিকিৎসা সেবা আরও গতিশীল করতে কেনা হয়েছে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম।  অথচ পর্যাপ্ত ও দক্ষ লোকবল না থাকায় এসব যন্ত্র এখনও চালু হয়নি।  ফলে রোগীরা কোনও সুফল পাচ্ছেন না।  লোকবলের অভাবে কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা সব যন্ত্র অব্যবহৃত পড়ে আছে।  নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  আইসিইউর জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রগুলোর প্রত্যেকটি ৭০ লাখ টাকা করে কেনা হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির ওপর বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০০৮ থেকে জুন ২০১৮ সালে ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি ফাস্ট ফেইজ ইন ঢাকা’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।  আইএমইডির প্রতিবেদনের খসড়া কপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগস্টের মধ্যে খসড়া কপি প্রিন্ট করে বই আকারে বের করা হবে।  পরে আইএমইডি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে।

আইএমইডির মহাপরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর-৫, স্বাস্থ্য ও গৃহায়ন) মো. মোখলেছার রহমান সরকার বলেন, বাংলাদেশে নাক, কান ও গলার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এখনো হাসপাতালের লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি। হাসপাতালে দামি দামি যন্ত্রপাতি জনবলের অভাবে নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মনিটরিং শেষ করেছি।  এখন খসড়া কপি প্রিন্ট করতে পাঠাবো।  এরপরই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলবো।  প্রকল্পটি পরিদর্শনের সময় আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মিটিং করেছি। মিটিংয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের হাসপাতালের দুর্বল দিকগুলো জানিয়েছি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে থেকে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি হাসপাতালে ২০১৯ সালে মোট ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭ জন, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি।  অথচ সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা মিলছে না।  ফলে চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।  বর্তমানে এই হাসপাতালে ১৩৫টি শয্যা রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে আন্তঃবিভাগে ভর্তির জন্য সিরিয়ালি দিয়ে রোগীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।  ১৩৫টি বেডের মধ্যে ৮১টি বেড ফ্রি সেবার আওতায়। এখানে গরিব, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসার ভার বহন করার কথা সমাজসেবা অধিদপ্তরের।  অথচ এখানে কোনও কার্যক্রম চলামন নেই। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ২০১৮ সালে হাসপাতালটি এসে পৌঁছায়। আর যন্ত্রপাতি সংগ্রহের সার্বিক দায়িত্বে ছিল সিএমএসডি (বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগার)।  সময় মতো যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে না পারায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে ব্যাঘাত ঘটে। বর্তমানে ল্যাবরেটরি, স্লিপ, অপারেশন থিয়েটারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রপাতি অচল রয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য আটটি অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর (এআরভি) মেশিন কেনা হয়েছিল।  জনবলের অভাবে এ পর্যন্ত আইসিইউ ইউনিট ও স্লিপ ল্যাব চালু করা সম্ভব হয়নি। আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর (এআরভি) মেশিন অকেজো অবস্থায় পাওয়া যায়। ছয়টি অর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর মেরামত করা হয়েছে।  তবে আশঙ্কা করা যাচ্ছে, স্থায়ী জনবল নিয়োগ না দিলে পরবর্তী সময়ে আইসিইউ ইউনিটের যন্ত্রপাতি আবারও অকেজো হয়ে যেতে পারে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে হিস্টপ্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্ত করা হচ্ছে।  কিন্তু সার্জারি পরবর্তী রেডিওথেরাপির কোনও ব্যবস্থা নেই। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালটিতে রেডিয়েশন ও অনকোলজির চিকিৎসকের জন্য সৃজনকৃত পদের বিপরীতে কোনও চিকিৎসক কর্মরত না থাকায় ক্যানসারের সম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৩০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। টেকনিশিয়ান পদে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে সৃজনকৃত পদের বিপরীতে কোনও  থেরাপিস্ট নেই। বেসরকারি পর্যায়ে থেরাপি গ্রহণ যথেষ্ট ব্যয় বহুল হওয়ায় নিম্ন আয়ের রোগিরা নানা সমস্যায় পড়েছেন।  প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও নাক, কান ও গলা রোগের দক্ষ জনবল তৈরিতে হাসপাতালটি এখনো পেশাদারি একাডেমিক কোর্স চালু করতে পারেনি।


হাসিবুল/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়