ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রথম পাতার খবর মুছে অস্ট্রেলিয়ায় পত্রিকা প্রকাশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২১ ৯:৩৬:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ১:৫৮:৩১ এএম

অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদপত্রগুলো প্রথম পৃষ্ঠার খবর কালো কালিতে মুছে পত্রিকা প্রকাশ করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ করে এর প্রতিবাদে সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রধান সংবাদপত্রগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে একজোট হয়ে এ কাজ করেছে।

এদিন যেসব পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর প্রথম পৃষ্ঠার খবরের বাক্যগুলো কালো কালিতে মুছে দেয়া ছিল।  আর ওপরের দিকে ডান পাশে ছিল ‘সিক্রেট’ লেখা লাল সিল।

এ প্রতিবাদ মূলত  জাতীয় নিরাপত্তা আইনকে উদ্দেশ‌্য করেই, যেটি অস্ট্রেলিয়ায় সাংবাদিকতাকে কঠিন করে তুলেছে এবং দেশটিকে একটি ‘গোপনীয়তার’ সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

সরকারের ভাষ্য, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে, তবে ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ তবে সাংবাদিকরা বলছেন, এ আইনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের কণ্ঠ চেপে ধরা হয়েছে।

এদিকে গোপনীয়তার বিরুদ্ধে জানার অধিকার জোট বা ‘রাইট টু নো কোয়ালিশন’ এর ব্যানারে সংবাদপত্রগুলো এ প্রতিবাদ জানায়।  তাদের এ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে সে দেশের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন, রেডিও চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম।

গণমাধ‌্যমগুলো জানায়, সরকারি দপ্তরের ফাঁস হওয়া কিছু গোপন তথ‌্যের ওপর ভিত্তি করে দুটি লেখার জন‌্য দুটি গণমাধ‌্যমে অভিযান পরিচালিত হয়। তার মধ‌্যে একটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ওপর সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

গত জুনে বিশ্বখ‌্যাত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) এবং নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার অফিসে পুলিশ হানা দিলে সাংবাদিকরা এর তীব্র সমালোচনা করেন।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড অ্যান্ডারসন বলেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয়তাপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে অস্ট্রেলিয়া।”

নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাহী চেয়ারম্যান মাইকেল মিলার তাদের প্রকাশিত পত্রিকার ছবি টুইটারে প্রকাশ করে জনগণকে সরকারের কাছে এ প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন যে- ‘তারা আমার কাছ থেকে কী লুকানোর চেষ্টা করছে?’

এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা আইন নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে, তিন সাংবাদিককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতে পারে।

আর প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।  তবে আইনের শাসন ধরে রাখতে হবে।  সেটি যে কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।’


ঢাকা/সাজেদ/এনএ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন