ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২২ ১০:১৬:০১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২২ ১:৫৬:১২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আলোচিত অভিশংসন শুনানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় সিনেটের অধিবেশনে এ শুনানি শুরু হয়।

এ সময় ডেমোক্র্যাটরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও প্রমাণাদি উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা তা হতে দেননি। 

সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলনেতা চাক শুমার ইউক্রেনকে ট্রাম্প যে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ফাইল তলব করার কথা বলেন। কিন্তু রিপাবলিকানরা তা নাকচ করে দেয়।

এছাড়া ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসন সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র এবং পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিসের ডকুমেন্ট তলব করার কথা বললেও তা প্রত্যাখান করেন ট্রাম্পের দলের সদস্যরা।

সিনেটে দ্রুত শুনানি কার্যক্রম শেষ করার জন্য দু’দিনের কর্মসূচি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককলিন।

এই দু’দিনে ট্রাম্পের অভিশংসনের সমর্থক ও বিরোধী সিনেটররা যুক্তি উপস্থাপন করবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে।

এরই মধ্যে অন্য রিপাবলিকান সিনেটরদের চাপের মুখে বিচারের শুনানি দ্রুত শেষ করার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল।

এর তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তারা বলছেন, এটা ধামাচাপা দেবার ঘটনা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

একে জাতীয় লজ্জা বলে মন্তব্য করে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, সাক্ষি ও নথিপত্র উত্থাপনের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে ট্রাম্পকে বাঁচানোর অপচেষ্টা এটি।

অন্যদিকে, দ্রুত শুনানি শেষ করার উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের তদন্তে বাধা দেয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষতি করলো তা পূরণ হবে না সহজে।

তবে, সিনেটররা নিরপেক্ষ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।

কিন্তু সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে যে, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করলেও তাকে দপ্তর থেকে সরাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বার কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক নেতা জো বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দিয়েছেন। এমন দুটি অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়।


ঢাকা/জেনিস