ঢাকা, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ভালোবাসায় ও ভালোবাসা দিবসে সৌদি তরুণ-তরুণীরা

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৫ ২:০৩:১৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৫ ২:০৩:১৬ এএম

ভালোবাসা দিবসে সৌদি আরবে এক সময় গোলাপ বিক্রি করতে দেখলেও তেড়ে আসতো পুলিশ৷ দিন বদলেছে৷ সৌদি তরুণ-তরুণীদের জীবন এখন অনেক আধুনিক৷

তখন গোলাপেও ছিল আপত্তি
দু’ বছর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবসে ফেরি করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে গোলাপ ফুল বিক্রি করা যেতো না৷ ছুটে এসে বিক্রেতাকে ধরে নিয়ে যেতো ধর্মীয় বিধান কার্যকর করার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ পুলিশ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতা রিয়াদের এক ক্যাফেতে বসে বলছিলেন, ‘‘এক সময় লাল গোলাপ বিক্রি করা ছিল মাদক বিক্রির মতো ব্যাপার৷’’

প্রতিদিন গোলাপের, প্রেমের..
এখন বিধিনিষেধের এত কড়াকড়ি নেই৷ রেস্তোরাঁয় তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি বা মুখোমুখি বসে গল্প করা এখন স্বাভাবিক দৃশ্য৷ আগে তা কল্পনাই করা যেতো না৷ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রেমিকা আগের দিনগুলোর কথা ভেবে যেন আঁতকে উঠলেন, ‘‘তখন একজন অনাত্মীয়ের পাশে একজন নারী বসবে এটা কল্পনা করাও ছিল অসম্ভব৷’’ তরুণ-তরুণীরা এখন কতটা স্বাধীন? গণমাধ্যমকর্মী তরুণী জানালেন, ‘‘এখন মেয়েরা তো ছেলেদের ডেকে বাইরে নিয়ে যায়৷’’

উপহার নিয়ে লুকোচুরি
আজকাল বিশেষ দিনে চিঠি লেখালেখি, কার্ড বিনিময়ও চলে৷ তবে ধরা পড়লে মুশকিল৷ ২৭ বছর বয়সি সামিরা (ছদ্মনাম) জানালেন বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনে কার্ড পাঠিয়ে একবার খুব বিপদে পড়েছিলেন৷ সেই কার্ড দেখে খুব রেগে গিয়েছিলেন বয়ফ্রেন্ডের মা৷

বয়ফ্রেন্ডকেও সন্দেহ
সৌদি আরব আগের চেয়ে ‘আধুনিক’ হলেও তরুণ-তরুণীরা এখনো ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় খুব বেশি অন্তরঙ্গ হতে পারেন না৷ তাতে সব জানাজানি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে৷ সামিরা জানালেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে বয়ফ্রেন্ডও বিপদে ফেলতে পারেন, ‘‘সে ভিডিও করে ফেলে কিনা কিংবা ছবি তুলে রাখে কিনা মেয়েরা সব সময় এ আতঙ্কে থাকে৷ সে যদি পরে আব্বাকে বলে দেয়, অথবা সব যদি পরিবারকে দেখিয়ে দেয়! ’’

চুমু হারাম
২৫ বছর বয়সি নাসের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেন৷ তার এক বন্ধু রিয়াদের এক রেস্তোরাঁয় পর্দার আড়ালে গার্লফ্রেন্ডকে চুমু খেয়েছিলেন৷ রেস্তোরাঁর ম্যানেজার এসে হঠাৎ চুম্বনদৃশ্য ভিডিও করতে করতে চেঁচাতে থাকেন, ‘‘এটা হারাম! এটা অনৈসলামিক!’’

গাড়িতে নিরাপদ
নাসেরের মতে, ‘‘কখনো কখনো শুধু গাড়িতে ডেট করাই নিরাপদ৷’’

ভাই যখন গোয়েন্দা
‘‘প্রেম করি’’ কথাটা সৌদি আরবের তরুণ-তরুণীরা এখনো খোলাখুলি সবাইকে বলতে পারেন না৷ তাই ভালোবাসা এবং ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে সবাই কথা বলেছেন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে৷ ২০ বছর বয়সি এক তরুণীর সন্দেহ, তার সেনাকর্মকর্তা বড় ভাই এক সময় তার পেছনে এক সেনাসদস্যকে গোয়েন্দাগিরির জন্য লাগিয়েছিলেন৷ সেই তরুণী প্রেম করে কিনা তা জানাই ছিল গোয়েন্দাগিরির একমাত্র উদ্দেশ্য৷

সত্য গোপন, গোপন ভ্রমণ
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সামিরা জানান, সময় কিছুটা বদলালেও তরুণ-তরুণীরা এখনো একেবারে অবাধে মেলামেশা করতে পারেন না৷ তিনি মনে করেন, ‘‘সৌদি সমাজ আগের চেয়ে আধুনিক হয়েছে ঠিকই, তবে মানুষ এখনো দেখেই অনেক খারাপ কিছু ভেবে বসে বলে প্রেম নিয়ে অনেকে মিথ্যা বলে৷’’ বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে নিজের মতো সময় কাটাতে সপ্তাহান্তে অনেকে দুবাই চলে যান বলেও জানিয়েছেন তিনি৷
সূত্র: ডয়েচে ভেলে


ঢাকা/সাইফ/নাসিম