RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ সফর ১৪৪২

করোনা নিয়ে সুর পাল্টালেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ২৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
করোনা নিয়ে সুর পাল্টালেন পুতিন

মাত্র এক সপ্তাহ আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। তবে সাত দিন পেরুতেই সুর বদলে ফেলেছেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের নতুন ভাষ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দেশ এখন ‘জটিল পরিস্থিতির’ দিকে যাচ্ছে।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেছেন, ‘বিতর্ক ছাড়াই’ রাশিয়ার মতো একটি বড় দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো অসম্ভব। রুশদের তিনি এই ‘জটিল’ পরিস্থিতি বুঝে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহ তারা বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে বেতন পেয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অতটুকু নির্দেশনা দিয়েই পুতিন তার ভাষণ শেষ করেছিলেন।  তবে লকডাউনের আরো কঠোর নির্দেশনাগুলো ঘোষণার দায়িত্ব তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

পুতিনের ভাষণের পরের দিন রুশ সরকার দেশের সীমান্ত বন্ধ ও সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। তবে করোনা প্রাদুর্ভূত দেশগুলো থেকে রুশদের ফিরিয়ে আনতে উড়োজাহাজ চলাচলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে রাজধানী মস্কোর বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার পরিকল্পনায় জোর দেন ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি রাজধানীর রেঁস্তোরা, ক্যাফে, বার, দোকানপাট ও পার্কিং শনিবার থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। কোনো রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাশিয়ার ইতিহাসে এগুলো সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ। অবশ্য এর কারণও রয়েছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮২ জন বেড়ে ৮৪০ এ পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে তিন ভাইরাস আক্রান্ত।

ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় রাশিয়ায় তুলনামুলকভাবে অনেক দেরিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। শীর্ষ রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ এবং ইরানের মতো ভাইরাস প্রাদুর্ভূত দেশগুলো থেকে আসা লোকজনকে পরীক্ষা করার কারণে রাশিয়ায় করোনার প্রাদুর্ভাব দেরিতে হয়েছে।  তবে ইউরোপসহ অন্য অঞ্চলের দেশগুলো থেকে আসা লোকদের পরীক্ষা করেনি রাশিয়া। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তদের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ইতালি ফেরত লোকদের মাধ্যমে।

করোনায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে ব্যক্তিগত পরীক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত রাখা হয়েছে। রাশিয়ায় বিদেশ থেকে যারাই আসছে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায় তার জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন চিকিৎসাকর্মীরা। স্থানীয় সরকার করোনা রোগীদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ভেন্টিলেটর দ্রুত সময়ের মধ্যে কিনছেন এবং আইসিইউ’র সংখ্যা বাড়াচ্ছেন।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রধান নিকোলাই মালেশেভ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরাসে ‘বিপুল সংখ্যক লোক আক্রান্ত হতে পারে।’


ঢাকা/শাহেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়