ঢাকা     সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

নিখোঁজ দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়রের মৃতদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৫৭, ১০ জুলাই ২০২০  

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের দীর্ঘদিনের মেয়র পার্ক উন-সুন নিখোঁজ হওয়ার পর ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাকে পাওয়া গেলো, কিন্তু জীবিত নয়। সাত ঘণ্টা ধরে তাকে খোঁজার পর শুক্রবার (১০ জুলাই) মধ্যরাতে সিউলের উত্তরাঞ্চলের একটি বুনো পাহাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ, খবর কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার।

অপরাধ তদন্ত ও গণমাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ মাথায় নিয়ে নিখোঁজ হন পার্ক। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টায় তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায় তার মেয়ে। রাত গভীর হতেই দেখা মেলে তার লাশের। তার শরীরে কোনও ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের কাছে কিংবা তার বাসভবন থেকেও কোনও সুইসাইড নোট খুঁজে পায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানান সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সির কর্মকর্তা চোই ইক-সু।

তবে পরে বাসার টেবিলে রেখে যাওয়া তার হাতের লেখা চিরকুট পাওয়া যায় এবং পরিবারের অনুমতি দিয়ে তা প্রকাশ করে শহর কর্তৃপক্ষ। পার্ক লিখেছেন, ‘আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। এই জীবনে যারা আমার সঙ্গে ছিল তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আমার পরিবারের কাছে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করছি, যাদের জন্য আমি ছিল কেবলই যন্ত্রণার।’

চোই বলেছেন, উদ্ধারকারী কুকুর পার্কের মৃতদেহ খুঁজে পায় এবং পুলিশ তার ব্যাগ, সেলফোন ও বিজনেস কার্ড উদ্ধার করে।

পার্কের খোঁজে ৬০০ পুলিশ মাঠে নামে। যেখানে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শেষবার শনাক্ত করা হয়েছিল, সেই মাউন্ট বুগাক হিলের আশেপাশে অগ্নিনির্বাপক কর্মী, ড্রোন ও কুকুর দিয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ বলেছে, তারা পার্কে ফোনে কল দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন পায়।

সিউল মেট্রোপলিটন সরকারি কর্মকর্তা কিম জি-হিয়ং বলেছেন, বৃহস্পতিবার অজানা কারণে কাজে যাননি পার্ক। সিউল সিটি হলে প্রেসিডেন্সিয়াল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিংসহ দিনের আরও কয়েকটি নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করে দেন।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নিজের বাসা ছেড়ে বের হন পার্ক এবং তার মাথায় ছিল কালো হ্যাট এবং একটি ব্যাকপ্যাক। ভিডিও ফুটেজে তাকে ১০টা ৫৩ মিনিটে বুনো পাহাড়ে ঢুকতে দেখা গেছে।

৬৪ বছরের নাগরিক কর্মী পার্ক ২০১১ সাল থেকে সিউলের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থিদের পক্ষে প্রার্থী হওয়ার কথা তার।

প্রায় এক দশক আগে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন পার্ক। রাজনৈতিক সম্পর্ক বা অভিজ্ঞতা ছাড়া মেয়র নির্বাচনে এভাবে তার বিজয় প্রার্থী হিসেবে তার বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। দেশে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এভাবে তার আবির্ভাবকে প্রথাগত রাজনীতি নিয়ে দক্ষিণ কোরীয়রা যে হতাশ তারই ইঙ্গিত বহন করে।

সাবেক মানবাধিকার আইনজীবী পার্ককে সংস্কারের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে তিনি আরও দুই দফায় সিউলের মেয়র নির্বাচিত হন।

 

ঢাকা/ফাহিম

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়