ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

যেদিন সত্য মারা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
যেদিন সত্য মারা গেল

গত গ্রীষ্মে শ্রীনগর হোটেলের বেজমেন্টে চারটি কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন শতাধিক সাংবাদিক। তাদের প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি পাঠাতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মির অবরুদ্ধ, বাতিল করা হয়েছে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা। জনপ্রতি মাত্র ১৫ মিনিট করে ইন্টারন্টে সংযোগ পেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। তারপর পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মিরের ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ টহল দিচ্ছে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করায় কাশ্মিরী জনগণ ফুঁসে উঠতে পারে। তাই আগেভাগেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

নয়াদিল্লির এই শাটডাউন ঘোষণায় সাংবাদিকরাও অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। পত্রিকাগুলো সব বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ রাজ্যে কোনো পত্রিকা প্রকাশ হয়নি। শাটডাউনের পাঁচ দিন পর ভারতীয় সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড এক বিবৃতিতে কাশ্মিরের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর আহ্বান জানায়।

এতে বলা হয়েছিল, ‘সরকার খুব ভালোভাবেই জানে বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়া সংবাদ তৈরি ও প্রকাশ অসম্ভব। গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে জম্মু ও কাশ্মিরসহ সব রাজ্যের কাজ করতে দিতে এটি ভারতীয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় সরকার শ্রীনগরের একটি হোটেলে একটি যোগাযোগ কেন্দ্র চালু করলো, যার নাম দেওয়া হয় মিডিয়া ফ্যাসিলেশন সেন্টার। শ্রীনগরের সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া মাত্র চারটি কম্পিউটার বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আরাবু আহমাদ সুলতান বলেন, ‘আমি কেন্দ্রে প্রায় ৩০০ সাংবাদিককে ডেস্কটপের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রীতিমতো মর্মাহত হলাম। তাদেরকে ইন্টারনেট ব্যবহারে মাত্র ১৫ মিনিট করে সময় দেওয়া হচ্ছিল। এটা ছিল অপমানজনক কিন্তু আমাদের কিছুই করার ছিল না।’

আগস্টের ওই সময়টাতে কাশ্মীরের সংবাদপত্রের চেহারা বদলে গিয়েছিল। পত্রিকায় পাতার সংখ্যা কমে গেছে, বিস্তারিত প্রতিবেদন নেই, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নেই, সম্পাদকীয়-বিশ্লেষণ নেই, এমনকি মতামতও নেই। সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতো। এমনকি কোনো সংবাদে সরকারবিরোধী মতের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতো।

কাশ্মিরের জনপ্রিয় পত্রিকা গ্রেটার কাশ্মিরের গ্রাহক ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গ্রেটার কাশ্মিরের কোনো মানসম্মত কপি আসতো না। প্রত্যেকটি প্রতিবেদন ছিল সরকারি সংস্করণ।’

শেষ পর্যন্ত পত্রিকা রাখা বন্ধ করে দেন হোসেন।

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়