RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনার ৬ মাসে ভারতে নতুন ১৫ বিলিওনিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
করোনার ৬ মাসে ভারতে নতুন ১৫ বিলিওনিয়ার

করোনা সঙ্কটের মধ্যেও গত ছয় মাসে ভারতে নতুন ১৫ জন শত কোটিপতি (বিলিওনিয়ার) তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম‘ফোর্বস’-এর ‘রিয়েল টাইম বিলিওনিয়ার’ তালিকার সূত্র ধরে শুক্রবার আনন্দবাজার অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই তালিকায় আপাতত মোট ১১৭ জন ভারতীয়ের নাম রয়েছে। মার্চ মাসে এই সংখ্যা ছিল ১০২। অর্থাৎ, পাটিগণিতের হিসেবে ওই সংখ্যা বেড়েছে ১৫ জন। ১১৭ জন ভারতীয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি ডলার। একে ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্য আরও বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। 

বিশ্বের শত কোটিপতির তালিকায় ভারতের মুকেশ আম্বানি ৬ নম্বরে। ভারত তো বটেই, এশিয়ার মধ্যেও ধনীতম রিলায়েন্স কর্ণধার। ১৮ সেপ্টেম্বরের হিসেব বলছে, তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ আট হাজার ৮২০ কোটি ডলার। ভারতে দ্বিতীয় স্থানে এইচসিএল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার শিব নাদার। দুই হাজার ৬০ কোটি ডলারের মালিক নাদার বিশ্বে ৬৪ নম্বরে। এর পর ভারতীয়দের তালিকায় ক্রমপর্যায়ে রয়েছেন আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি, কোটাক মহিন্দ্রা গ্রুপের কর্ণধার উদয় কোটাক, ডিমার্টের কর্ণধার রাধাকৃষ্ণ দামানি ও তার পরিবার, সিরাম ইনস্টিটিউটের কর্ণধার সাইপ্রাস পুণাওয়ালার মতো ব্যবসায়ীরা।

ভারতীয় শত কোটিপতিদের তালিকায় সবচেয়ে নিচে আপাতত ওয়েলস্প্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। ১৮ সেপ্টেম্বর তার সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। তার উপর ক্রমান্বয়ে রয়েছেন রাধেশ্যাম আগরওয়াল, রাধেশ্যাম গোয়েনকা, বিনি বনসল, মুরলিধর বিমল কুমার জ্ঞানচন্দানি। তাদের সম্পত্তির পরিমাণ ১০১ কোটি ডলারের আশেপাশে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের জেরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আর সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন অতিধনীরা। 

পশ্চিবঙ্গের অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, ‘বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে কার্যত তেমন ক্ষতি হয়নি। বরং বলা যায়, ধনীরা আরও ধনী হয়েছেন। গরিব আরও গরিব। অর্থনীতির বণ্টন বৈষম্য আরও বেড়েছে।’ 

ধনী-গরিবের বৈষম্য কেন বাড়ছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘মোটের উপর আর্থিক সঙ্কট তৈরি হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্র বিরাট লাভবান হয়েছে অতিমারির সময়ে। এই সময়টায় পড়াশোনা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু অনলাইনভিত্তিক হয়ে গিয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়েছে। এই সবের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি যারা তৈরি করছেন, তাদের ব্যবসা বাড়ছে। একইভাবে মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ চিকিৎসাসামগ্রী তৈরির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিও তাদের ব্যবসা বাড়ানোর বিপুল সুযোগ পেয়েছে। সব মিলিয়ে অনেকগুলি রাস্তা খুলে গিয়েছে। নতুন নতুন সম্পদশালী তৈরি হচ্ছেন। কিন্তু গরিব মানুষ আরও গরিব হচ্ছেন।’ 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়