ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

‘করোনাভাইরাস দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে’

27 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২২ মার্চ ২০২০  

ড. এ. বি. মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। ‘মির্জ্জা আজিজ’ নামে তিনি সমধিক পরিচিত। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন শুরু হয় ঢাবিতে শিক্ষক হিসেবে। জাতিসংঘে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। ছিলেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান। ২০০৭-০৮ সালের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হয়েছেন প্রশংসিত।

দেশের শীর্ষ ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি ওয়ালটনের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ইতিবাচক দিক, শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে করণীয়, পুঁজিবাজারে গুজব এড়িয়ে নিশ্চিত বিনিয়োগের উপায়- রাইজিংবিডির সঙ্গে তাঁর একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ইত্যাদি বিষয়। কথোপকথনে ছিলেন রাইজিংবিডির প্রধান প্রতিবেদক এম এ রহমান মাসুম। আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব।

রাইজিংবিডি: বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটুকু হতে পারে বলে মনে করেন?

মির্জ্জা আজিজ: করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে থেকেই বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচক সন্তোষজনক ইঙ্গিত বহন করছিল না। এর সঙ্গে মরার উপর খরার ঘায়ের মতো সমস্যা সৃষ্টি করেছে করোনাভাইরাস। যদিও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এর ব্যাপকতা ওই অর্থে শুরু হয়নি। তবে বিশ্বের অন্য দেশে এর ব্যাপকতা অনেক। বিশেষ করে আমাদের রপ্তানির অধিকাংশ যায় আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইতালিতে। এই ক’টি দেশে আমাদের রপ্তানির ৭০ শতাংশ যায়। করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে অর্ডার কমে গেছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। তাছাড়া রপ্তানি অর্ডার থাকলেও আমাদের কাঁচামাল বিদেশী নির্ভরতার কারণে অর্ডার গ্রহণ করা যাবে না। অন্যদিকে মূলধনী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল আমদানির একটি বড় অংশ আসে চীন থেকে। ফলে করোনার প্রভাব এখানেও পড়েছে।

রাইজিংবিডি: প্রবাসীদের রেমিটেন্স বাংলাদেশের বড় অর্জন। করোনার প্রভাব এখানে কতটুকু পড়তে পারে?

মির্জ্জা আজিজ: একটি বিষয় হলো প্রবাসীদের রেমিটেন্সের প্রবাহ দীর্ঘদিন ইতিবাচক থাকলেও জানুয়ারি থেকে এমনিতেই কমে এসেছে। কারণ মধ্যপ্রাচের অনেক দেশ থেকে আমাদের প্রবাসী ভাইরা চলে এসেছেন। অন্যদিকে করোনার কারণে প্রবাসীরা ফেরত আসছে। এর আগে যারা এসেছে তারা এ মুহূর্তে ফেরত যেতে পারছে না। কিংবা যারা বিদেশে আছেন তাদেরও কাজ নেই। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই সেক্টরে বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছি আমরা।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশের চলমান প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি। এক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব কতটুকু পড়বে বলে মনে করছেন?

মির্জ্জা আজিজ: এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে- করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ কমে যাবে। সেটা বড় একটি অভিঘাত। প্রবৃদ্ধি যদি কমে যায়, তার মানে হচ্ছে বিনিয়োগ কমে যাওয়া। এডিবি’র মতে ৯ মিলিয়ন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এমনিতে শিল্পখাতে নিয়োগ কমে আসছিল। এর কারণ ছিল রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও প্রযুক্তিগত উন্নতি। যা দারিদ্রের হারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর একটি বিষয় হচ্ছে, করোনাভাইরাসের ফলে সার্বিকভাবে বিশ্বের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া মানে হচ্ছে  আমদানি কমে যাওয়া। তাদের আমদানি কমে যাওয়া মানে হচ্ছে আমাদের রপ্তানি কমে যাওয়া। সুতরাং সেটা অবশ্যই আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। (চলবে)

‘ওয়ালটন পুঁজিবাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই ভালো হবে’


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়