Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৬ ১৪২৮ ||  ০৫ রমজান ১৪৪২

প্রণোদনা পাচ্ছেন খুলনা উপকূলের ৭০ হাজার খামারি 

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২০, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১  
প্রণোদনা পাচ্ছেন খুলনা উপকূলের ৭০ হাজার খামারি 

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা উপকূলের ১০ জেলার ৭০ হাজার ১৬১ জন পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারি সরকারের প্রণোদনা পাচ্ছেন। 

ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসনের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ এক থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত করোনা মহামারীর কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া; ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড, কালিগঞ্জ; যশোরের অভয়নগর, শার্শা; বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোংলা, রামপাল; সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা, কলারোয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার ডেইরি ফার্মের মালিকরা প্রতি লিটার গরুর দুধ ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। 

সাত মাসের মধ্যে ছোট বড় খামারগুলোতে গড়ে এক লাখ টাকা করে লোকশান হয়। মুরগির ডিম প্রতি পিস পাঁচ টাকা, একদিন বয়সী সোনালী, কক ও ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা পাঁচ টাকা এবং ব্রয়লার প্রতি কেজি নব্বই টাকা দরে বিক্রি হয়। 

খামারিদের উৎপাদন খরচ ওঠেনি। ফলে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। খুলনা উপকূলের ১০ শতাংশ খামারি পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব খামারিদের প্রণোদনার ঘোষণা রয়েছে সরকারের। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্মগুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারের মালিকরা এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেব মতে, খুলনা অঞ্চলে এক লাখেরও বেশি পোল্ট্রি ও গবাদী পশুর খামারি উৎপাদনে রয়েছেন। তার মধ্যে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ৭০ হাজার ১৬১ জন খামারিকে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। 

প্রণোদনা পাবে তালিকাভূক্ত খামারিদের মধ্যে খুলনা জেলায় ৭ হাজার ২০২ জন, বাগেরহাটে জেলায় ৯ হাজার ৬১ জন, সাতক্ষীরায় ১০ হাজার ২৩৪ জন, যশোরে ৮ হাজার ৭৭১ জন, ঝিনাইদহে ১২ হাজার ৬৪৬ জন, মাগুরায় ৭ হাজার ১৬৪ জন, নড়াইলে ১ হাজার ৮৫১ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ হাজার ৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার ৫৩১ জন ও মেহেরপুর জেলায় ১ হাজার ৬৯৪ জন। 

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের খলিসাবুনিয়া গ্রামের মুরগির খামারি স্বপন রায় জানান, গত বছরের জানুয়ারি মাসে ৫০০ মুরগি ডিম দিয়েছে। লোকসানের কারণে ২২৫ পিস বিক্রি করতে হয়েছে। বড় ধরণের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। সরকারি পর্যায়ে এক থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনায় ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হবে না। খামারগুলো পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে না। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. মো. শাহবুদ্দিন আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসনের জন্য মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক একাউন্ট নম্বর মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টে পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাবেন তারা। 

খুলনার দাকোপ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার রায় জানান, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এ উপজেলার ২ হাজার ৬০০ খামারির মধ্যে ৩৯৬ জনকে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। উপজেলার বানিশান্তা, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, তিলডাঙ্গা, সুতারখালী, কামারখোলা, পানখালী ও পৌর এলাকার খামারীরা করোনাকালীন সময়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, ‘ঝিনাইদহ জেলার ২১ হাজার খামারীর মধ্যে ১২ হাজার ৬৪৬ জন খামারী প্রণোদনার জন্য তালিকাভূক্ত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রণোদনা পাবেন তারা।’

খুলনা/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়