ঢাকা, সোমবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

উচ্চ আদালতে এক ঝাঁক নারী আইন কর্মকর্তা

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৫ ৮:২০:২৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৭ ৫:৪৬:১১ পিএম
উচ্চ আদালতে এক ঝাঁক নারী আইন কর্মকর্তা

মেহেদী হাসান ডালিম :

 ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,

 অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’

সারা বিশ্বেই পুরুষের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলছেন নারী। বাংলাদেশে কয়েক দশক আগেও নারীকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হত এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলে গেছে। আদতে, নারীরাই তাদের দক্ষতা আর মেধা দিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে বাধ্য করেছে।

বাংলাদেশের সব্বোর্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় এখন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে নারীরা। বিচারপতি হিসেবে তারা যেমন সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নজির স্থাপন করেছেন, তেমনি রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় সফলভাবে আইনী লড়াই করে যাচ্ছেন নারী আইন কর্মকর্তা। পুরুষের পাশাপাশি আইন পেশায় অবদান রাখছেন তারাও। সম্প্রতি এক ঝাঁক তরুণ নারী আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল(আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তাদের অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অ্যাডভোকেট ফারজানা রহমান শম্পা, ফরিদা পারভীন ফ্লোরা, সামসুন নাহার লাইজু, ঈশিতা পারভীন, ফেরদৌসি আক্তার কল্পনা, কোহিনুর আক্তার লাকী, মেহজাবিন রব্বানি দিপা, শাহালা শরাফাত নেজাদ সুমি, আন্না খানম কলি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। রাষ্ট্রের স্বার্থে, দরিদ্র মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে ভূমিকা রাখতে চান তারা।

মুন্সিগঞ্জের মেয়ে ফারজানা শম্পা। ১০ বছর ধরে আইনপেশায় আছেন। তার স্বামী ব্যারিস্টার সামিউল হাশিমও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দারুণ খুশি তিনি। এ দায়িত্বকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থে দেশের কল্যাণে আইন কর্মকর্তা হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান।

বা থেকে-সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি, মেহজাবিন রব্বানি দিপা, ফারজানা রহমান শম্পা, ঈশিতা পারভীন,সামসুন নাহার লাইজু, ফেরদৌসি আক্তার কল্পনা, ফরিদা পারভীন ফ্লোরা, শাহালা শরাফাত নেজাদ সুমি ও কোহিনুর আক্তার লাকী।

 

ছোটবেলা থেকে কালো কোর্টের প্রতি ভালবাসা থেকে আইনপেশা বেছে নেন সামসুন নাহার লাইজু। তিনি বলেন, ‘শুধু আইনপেশায় নয়, সব পেশাতেই পুরুষের সঙ্গে নারীদের সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে।’ গোপালগঞ্জের মেয়ে লাইজুর স্বামী শাফায়েত হোসেন সজীবও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

ফরিদা পারভীন ফ্লোরা, ছোটবেলা থেকে ছবি আকঁতে ভালবাসতেন। শখের বশে ভর্তি হন চারুকলায়। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা বাবা-মায়ের ইচ্ছেকে প্রধান্য দিয়ে আইন পড়া শুরু করেন। ফ্লোরা ২০০৬ সাল থেকে আইন পেশায় আছেন। তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ফ্লোরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নারী আইন কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে মূল অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অ্যাডভোকেট ঈশিতা পারভীন ২০০৮ সাল থেকে আইন পেশায় আছেন। তার বোন অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসি রুপা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। দুলা ভাই মো. বদরুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈশিতার শাশুড়িও আইনজীবী। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ঈশিতা বলেন, এতদিন আসামিকে আইনী সহায়তা দিয়েছি। এখন থেকে রাষ্ট্রের পক্ষে আইনী লড়াই করবো। সত্যিই অসাধারণ লাগছে।

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে মেহজাবিন রহমান দীপা। ১৪ বছর ধরে আইন পেশায় আছেন। জ্যেষ্ঠ্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। তার স্বামী মো. আরিফুজ্জামানও একজন আইনজীবী। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে চান দীপা।

সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেলদের সাথে সেলফিতে রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম

 

চাঁদপুরের মেয়ে ফেরদৌসি আক্তার কল্পনা। ১১ বছর ধরে আইন পেশায় আছেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ায় দারুণ খুশি তিনি। কল্পনা বলেন, সরকার আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা যথাযথভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করবো। আমাদের নিয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আবারও প্রমাণ করলেন তিনি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।

কোহিনুর আক্তার লাকী ও ১১ বছর ধরে আইনপেশায়। শরিয়তপুরের মেয়ে লাকীর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। লাকী বলেন, অসততার কাছে কখনও হার মানবো না। আইন কর্মকর্তা হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

অ্যাডভোকেট শাহালা শরাফাত নেজাদ সুমির বাবা ছিলেন ডাক্তার। বাবার অনুপ্রেরণায় ভর্তিও হয়েছিলেন মেডিকেল কলেজে। কিন্তু মন টেকেনি। পরে আইন পেশা বেছে নেন সুমি। ২০০৬ সাল থেকে আইনপেশায় আছেন তিনি। ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা সুমির স্বামী আনিসুজ্জামানও একজন আইনজীবী। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়ে রাষ্ট্রের আইনী স্বার্থ দেখা গুরু দায়িত্ব বলে মনে করেন সুমি। তিনি বলেন, যতদিন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে আছি ততদিন রাষ্ট্রের আইনী স্বার্থ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাব।

গোপালগঞ্জের মেয়ে অ্যাডভোকেট আন্না খানম কলি। ২০০৮ সাল থেকে আইন পেশায় আছেন তিনি। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন কলি। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগকে তার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন বলে মনে করেন তিনি। আন্না খানম কলি বলেন, যোগ্যতা দিয়ে, পরিশ্রম করে আইন পেশায় টিকে থাকতে চাই। রাষ্ট্রের স্বার্থে ভূমিকা রাখতে চাই।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ আগস্ট ২০১৯/মেহেদী/নবীন হোসেন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন