ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আরেক জাহালম হতে যাচ্ছেন কি জামসু মিয়া?

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৫ ৭:২৯:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৬ ১২:৫৭:৪৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামসু মিয়া কী আরেক জাহালম হতে যাচ্ছে? শুধু চেহারায় মিল থাকার কারণে দুদকের মামলায় তিন বছর জেল খাটেন জাহালম। আর নামের মিল থাকায় গত ১৮ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন মো: জামসু মিয়া (৩৭)।

তবে জাহালমের গ্রেপ্তার ছিলো ষড়যন্ত্রমূলক। আর জামসু মিয়াকে আটকের বিষয়টি ভুলবশত।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে প্রকৃত আসামি এখন জর্ডানে। অন্যদিকে কেবল নামের মিল থাকায় পুলিশের ভুলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন জামসু। গত ৮ আগস্ট আটক হবার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জামসু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার উদিয়ারপাড়ার (স্কুল পাড়া) সিরাজুল হকের ছেলে।

ঢাকার সিএমএম আদালতের যৌতুক আইনের একটি মামলায় এ ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভিকটিম মো. জামসু মিয়ার উপস্থিতিতে ঢাকা সিএমএম আদালতে শুনানি হয়। তারপরও তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।

২০১৫ সালের ১১ জুন ঢাকা সিএমএম আদালতে মানহুরা খাতুন (২৬) তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার মো. জামসু মিয়া সাগরের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং সিআর ২১৯/২০১৫। সাগরের পিতার নাম মো. সিরাজ মিয়া। মামলার আসামি গত ১ মার্চ থেকে পলাতক। ওই মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামির অনুপস্থিতিতে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন।

রায়ের সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে একটি সাজা পরোয়ানা জারি করেন। ইটনা থানায় ওই পরোয়ানা পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ জামান গত ২৫ জুলাই ওই থানার এসআই শামছুল হাবিবকে পরোয়ানা তামিলের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন। ৭ আগস্ট এসআই শামছুল হাবিব জামসু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। যদিও এই জামসু প্রকৃত আসামি নয়। নিজের আর পিতার নামের কাছাকাছি মিল থাকায় আটক করা হয় তাকে।

পরদিন ৮ আগস্ট জামসুকে কিশোরগঞ্জে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠান। গত ২২ আগস্ট রায় প্রদানকারী আদালতে ভুক্তভোগী মো. জামসু মিয়ার আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ভুল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করেন। ওইদিন মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন বিষয়টি অবগত হয়ে আসামির উপস্থিতিতে ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী রোববার কিশোরগঞ্জ কারাগার থেকে জামসু মিয়াকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন শুনানিতে আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ভুল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে মো. জামসু মিয়ার জামিনের প্রার্থণা করেন। শুনানির সময় সাজা হওয়া প্রকৃত আসামি জামসু মিয়া সাগরের আইনজীবী এসএম গোলাম ছোবহান শেখও বিষয়টি সত্য বলে আদালতকে জানান।

কিন্তু বিচারক মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং গ্রেপ্তার করা আসামি ভিন্ন ব্যক্তি কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ সম্পর্কে ভুক্তভোগীর আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ বলেন, গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে ভুলের বিষয়টি বলা হলেও পুলিশ তাকে ছাড়েনি বা তদন্ত করেও দেখেনি। এ কারণেই একজন নিরাপরাধ মানুষ ৮ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত আসামি বর্তমানে জর্ডান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কে প্রকৃত আসামি মো. জামসু মিয়ার (সাগর) আইনজীবী এসএম গোলাম ছোবহান শেখ বলেন, আমার মামলার আসামিকে আমি চিনি। যে আসামিকে পুলিশ ধরে এনেছে সে ওই আসামি নয়। আমি শুনানির সময়ও আদালতকে একথা বলেছি।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ আগস্ট ২০১৯/মামুন খান/নবীন হোসেন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন