ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আবরার হত্যা: ৩ জনের ৫ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৯ ৫:৫৫:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৯ ৫:৫৫:২৪ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আরো তিন আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- বুয়েট শেরেবাংলা হলের ৩০৭ নম্বর রুমের মো. মনিরুজ্জামান মনির ও ১০০৮ নম্বর   রুমের আকাশ হোসেন এবং সন্দিগ্ধ আসামি সামছুল আরেফিন রাফাত।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে  আবরারকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পরের দিন রাত আড়াইটা পর্যন্ত হলের ২০১১ এবং ২০০৫ নম্বর কক্ষে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প এবং লাঠি-সোটা দিয়ে মারধর করা হয়। এর ফলে ঘটনাস্থলে আবরারের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তার মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরে কিছু ছেলে আবরারের মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে আসামি রাফাতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন। তারা বলেন, আসামি মেহেদী হাসানকে সেখানে ডেকে নেয়া হয়েছিল। সে মারধরের সঙ্গে জড়িত নয়। ডেকে নেয়ায় তাকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।

অন্য দুই আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাদের কিছু বলার আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে আসামি আকাশ জানায়, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায় নাই।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রোববার রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ।


ঢাকা/মামুন খান/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন