ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সম্রাট ১০ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৫ ১:৪২:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৬ ১১:০৬:১৬ এএম

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। যুবলীগের আরেক বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সম্রাটকে অস্ত্র আইনের মামলায় পাঁচ দিন ও মাদকদ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন। মাদকের মামলায় আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়।

অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা।

গত ৭ অক্টোবর এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। ওই দিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। কিন্তু ৯ অক্টোবর সম্রাট অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) শুনানির তারিখ ধার্য করেন আদালত।

অস্ত্র আইনের মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে  সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় আরমান মাতাল থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইলের অফিসে আরো মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সে সংবাদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বেলা ১টার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সম্রাটের বেড রুমের জাজিমের ওপরে তোষকের নিচ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক মেশিন ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে সম্রাটের কার্যালয় থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, চার প্যাকেট তাস ও ১ হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সম্রাট।

প্রাথমিক তদন্তে আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আরমান সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অবৈধ মাদকের যোগানদাতা। তারা পরস্পর যোগসাজশে মাদক সংরক্ষণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক ব‌্যবসা, জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।

গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়া যায়। বন‌্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে সম্রাটকে কারাগারে নেয়া হয়।

৭ অক্টোবর বিকেলে র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় দুটি মামলা করেন। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় সম্রাটকে একমাত্র আসামি করা হয়। মাদকের মামলায় সম্রাট এবং আরমানকে আসামি করা হয়। 

 




ঢাকা/মামুন খান/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন