ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ক‌্যাসিনো থেকে ১০ লাখ টাকা পেতেন এক নেতা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ২:৪২:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ৮:০২:১০ পিএম

গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট রিমান্ডে ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িত অনেকের নাম বলেছেন।

রিমান্ডে সম্রাট যারা যারা ক‌্যাসিনোর টাকা পেতেন তাদের নাম জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম রাইজিংবিডিকে বলেন, সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যেগুলো এখন আমরা যাচাই-বাছাই করছি ।

এর আগে সম্রাট গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন, ক্লাব পাড়ার ক্যাসিনোর টাকার ভাগ অনেকেই পেতেন। তারা এই টাকা নিয়ে বিলাসী জীবন-যাপন করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কি শুধু আমি একাই দায়ী? দলের বাইরে এসব ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ টাকারও বেশি নিতেন। একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতাকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হতো। এ ছাড়া অনেককে নামি দামি গাড়ি, বাসাবাড়ির ডেকোরেশন পর্যন্ত করে দিতে হয়েছে। অথচ তারা আজ সবাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমাকে একাই দোষারোপ করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের জেরার মুখে তিনি আরো বলেছেন, আমার একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না ক্যাসিনো ব্যবসা। আমি একক সিদ্ধান্তে এ ব্যবসা করিনি। এর সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত আছে।

আর সম্রাটের সহযোগী এনামুল গোয়েন্দাদের বলেছেন, ক্যাসিনো বাণিজ্য, অবৈধ মার্কেট, দোকান, ফুটপাত, মাদক ব্যবসার কমিশনসহ বিভিন্ন খাত থেকে উপার্জিত টাকা দল ও দলের বাইরের লোকজন নিতেন। সম্রাটের নির্দেশে  কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশনে বসেই এ টাকা দেওয়া হতো। আবার কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা দিয়ে আসতে হতো।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য ও উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও সম্রাটের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন।

এদিকে বুধবার রাতে সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলা তদন্ত করছে র‌্যাব।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে মতিঝিল ক্লাব পাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপরই ঘুরে ফিরে নাম আসে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের। সে সময় সম্রাট আত্মগোপনে চলে যান। ৬ অক্টোবর কুমিল্লার একটি বাড়ি থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।


ঢাকা/মাকসুদ/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন