ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৪ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন রুম্পা?

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১০ ৭:২৩:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১০ ৯:১৯:৫৮ পিএম

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ৪ ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন, তাই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। হত্যা না রুম্পা নিজে থেকে পড়েছেন তা মঙ্গলবার পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে কথা হয় মামলার তদারকি কর্মকর্তা ও রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) কমিশনার সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘রুম্পার প্রেমিক সৈকতকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে, তার কাছ থেকে যেসব তথ্য মিলছে, তাতে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হবে না। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে আমাদের অন্য কিছু নিয়েও ভাবতে হয়েছে। এখনই বলা যাচ্ছে না মৃত্যুর কারণ।’

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রুম্পার লাশ পড়ে ছিল ভবনের মাঝখানে। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বাসার নিচে জুতা পরিবর্তন করে। চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল, ঘড়ি, আংটি, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। এই চার ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন, এটিই প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কী হয়েছিল, তাই এখন তদন্তের বিষয়। তারই অংশ হিসেবে ঘটনার দিন সকাল থেকে রুম্পা কি কি কাজ করেছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন সাড়ে ৬টার পর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রুম্পার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এসব করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তদন্তও সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে, প্রথমে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেন রুম্পাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তবে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এটি প্রাথমিক প্রতিবেদন। বুধ কিংবা বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসবে। এরপরই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে।’

তবে, চিকিৎসকের এ তথ্য মানতে নারাজ নিহত রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন। পুলিশের এ ইন্সপেক্টর (রুম্পার বাবা) বলেন, ‘সঠিক তদন্ত হলে মৃত্যুর আগে রুম্পা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে। আর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় রুম্পা কোথায় ছিল তা আমরাও বলতে পারবো না। কেননা, সেতো মোবাইল রেখে যায়।’

প্রসঙ্গত, বুধবার সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ বাসার সামনে রুম্পার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় তার সাবেক প্রেমিক আব্দুর রহমান সৈকতকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা।


ঢাকা/মাকসুদ/মাহি