ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

গোপন বিয়েই হলো কাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৩ ৭:০৮:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৩ ১০:১৯:০৭ পিএম

শহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মর্জিনা (২৫)। দু’জনে গোপনে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। চার মাস সংসারও করেন। তবে এই বিয়েই তাদের জীবনে কাল হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করছেন। গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুজনের লাশ ফকিরাপুলের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে কথা হয় মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। চিরকুটে লেখা আছে, ‘ড্রামে আমার স্ত্রীর লাশ, এক সাথে আমাদের কবর হবে, আমাদের বিয়ে কেউ জানত না, আমাদের ক্ষমা করে দিও। আমরা বাঁচতে চাই না।’ তবে চিরকুটগুলো কার হাতের লেখা তা নিশ্চিত হতে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানান, শহিদের সিলেটের গ্রামের বাড়িতে আগের সংসার আছে। তবে তিনি গোপনে চট্টগ্রামের রাউজানের মর্জিনাক বিয়ে করেন। যা তার আগের পক্ষের স্ত্রী জানতেন। ভালই চলছিল দ্বিতীয় সংসার। এরই মধ্যে ফকিরাপুলের বাসায় শহিদের প্রথম স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য লোকজন এসে ঝগড়া করে। মর্জিনাকে বিয়ের বিষয়টি তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তারই অংশ হিসেবে ঘটনার এক সপ্তাহ আগে শহিদুলকে হুমকিও দেওয়া হয়। যা মোবাইলের কললিস্ট থেকে ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ, পূর্বশত্রুতা, আর্থিক কলহসহ বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত হচ্ছে।

এ কারণে শহিদ মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে স্ত্রী মর্জিনাকে হত্যার পর নিজে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাকি এতে অন্য কারো হাত আছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। দম্পতির মোবাইলের কললিস্টও চেক করা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থেই শহিদুলের প্রথম স্ত্রীর নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করতে চাচ্ছে না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন জানা গেছে, ফকিরাপুলের যে বাসা থেকে শহিদুল-মর্জিনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সে বাসায় কেয়ারটেকারের চাকরি করতেন শহিদুল। বাড়িটির মালিক একজন প্রবাসী। মর্জিনাকে বিয়ের পর শহিদ ও মর্জিনা সেখানে থাকতে শুরু করেন। মাঝে মধ্যে তাদের ঝগড়াও হতো। কিন্তু গোপন বিয়ে করায় কাউকে কিছু বলতে পারতেন না। বিয়ের আগে মর্জিনা শহিদুলের কাছে প্রায়ই আসতেন। কিছু সময় অবস্থান করে আবার চলেও যেতেন।

প্রসঙ্গ, বুধবার রাতে ফকিরাপুলের কোমর গলির ৫৫ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ঘরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শহিদুলের লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। মর্জিনার লাশ পাওয়া যায় সেই ঘরের একটি ওল্টানো ড্রামের ভেতর।

 

ঢাকা/মাকসুদ/সনি