ঢাকা, রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এনু-রুপনের রিমান্ড চায় সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ১:৪৮:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৪ ২:০৮:৪১ পিএম

মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মেহেদী মাকসুদ আসামিদের আদালতে হাজির করে এ রিমান্ড আবেদন করেন।

জানা গেছে, মানিলন্ডারিং আইনের পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছে সিআইডি।

বেলা তিনটার দিকে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সোমবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের শেয়ার হোল্ডার এনু ছিলেন গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ক্যাসিনো কাণ্ডে অভিযানের পর পরই তাদের গেন্ডারিয়ার বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। তবে তারা আগে থেকেই টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় সাতটি মামলা হয়। এনু-রুপনের দুই সহযোগী হারুন অর রশিদ ও আবুল কালাম গা ঢাকা দেন। মানিলন্ডারিং আইনের চারটি মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাসিনোর অন্ধকার জগৎ তাদের কাছে ধরা দেয় অনেকটা আলাদিনের চেরাগ হয়ে। পুরান ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় এনু ও রুপনের নামে একের পর এক হিসাব খোলা হয়। সবচেয়ে বেশি হিসাব খোলা হয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে।

দুই যুবলীগ নেতার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। তবুও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এনু-রুপনের ১৯টি বাড়ি ও একাধিক প্লট রয়েছে।

এদিকে এনামুল হক এনু ও রুপন ভুঁইয়াকে সিআইডি গ্রেপ্তার করার পরই অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন এ্যারেস্ট) আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আগামী ১৯ জানুয়ারি আসামিদের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুনানির তারিখ ধার্য করেন আদালত।

এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুদক।

এনামুল হক এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

অন্যদিকে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় নামে-বেনামে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকের অপর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী মামলা করেন।


ঢাকা/মামুন খান/জেনিস