ঢাকা     রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৭ ||  ০৯ সফর ১৪৪২

ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পাদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পাদকের মামলা

অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করেও মামলা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সাভার থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহারের আদালতে ‘মানবাধিকার খবর’ নামে মাসিক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক, মানবাধিকার কর্মী মো. রিয়াজ উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নথি পর্যালোচনায় পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সাভার থানার ওসি এফএম শাহেদ হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকারিয়া, উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলি এবং সাভার থানাধীন ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক, অপহরণকারী বৃষ্টি, তার স্বামী শুধাংশ রায়, নয়ন কুমার ও রণিসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে গত বছর ডিসেম্বরে আসামি বৃষ্টির ফেসবুকে পরিচয়। তিনি বাদীকে একটি ছেলেসহ বিভিন্ন অসহায়ত্বের কথা বলেন। বাদী মানবাধিকার কর্মী হওয়ায় তার কাছে সহায়তা চান এবং সরেজমিনে অসহায়ত্ব দেখে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ করেন। বাদী সরল বিশ্বাসে আসামি বৃষ্টির কথায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার বাসস্ট্যান্ড হয়ে হেমায়েতপুরস্থ বালুর মাঠের সোহরাব হোসেনের বাড়ীতে দুপুর ১টার দিকে যান। সেখানে ৩/৪টি ছেলে তাকে বৃষ্টির ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাড়ীতে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে তাকে বেঁধে মারধর শুরু করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা, মোবাইল, ক্যামেরা, এটিএম কার্ড নিয়ে যায়। এরপর নির্যাতন করে এটিএম কার্ড ও বিকাশের পিন নম্বর নিয়ে ৬ হাজার টাকা তুলে নেয়। এরপর বাদীর মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীসহ বিভিন্ন জনকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো মুক্তিপণ না পেয়ে বেলা ৪টার দিকে সাভার এলাকায় ছেড়ে দেয়। এরপর বাদী সাভার থানায় যান এবং পুলিশ আসামিদের কাছে অভিযোগ করেন।

আসামি এনামুল হক ওইদিন সন্ধ্যার দিকে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামিদের গ্রেপ্তার করেন এবং সব কিছু উদ্ধার করে আসামি বৃষ্টি, নয়ন কুমার, রণি ও অজ্ঞাত এক নারীকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় আসার পর মামলার প্রস্তুতির এক পর্যায়ে পুলিশ বাদীকে আসামিদের সাথে সমঝোতা করতে বলেন। না করলে উল্টো ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির মামলায় বাদীকে আদালতে চালানের ভয় দেখায় এবং বাদীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে থানা ছাড়তে বাধ্য করেন। পরে বাদী জানতে পারেন যে, আটককৃতরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান, প্রিয়লাল সাহা, সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন জেসি জানান, এই ঘটনায় বাদী ঢাকার পুলিশ সুপারের কাছেও একটি অভিযোগ দিয়েছেন। যা তদন্ত চলছে।

 

ঢাকা/মামুন খান/জেনিস

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়