ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাভাইরাসে বিপাকে অপরাধীরাও

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩০ ৫:২৭:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-৩০ ৫:৩৮:২৯ এএম
সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ, ফাঁকা ঢাকা (ছবি: রাইজিংবিডি)

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ছুটি চলছে।  বন্ধ যান চলাচল।  দীর্ঘ ছুটি কাটাতে রাজধানী ছেড়েছেন বেশিরভাগ মানুষ।

এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুমী অপরাধীরা।  জনমানবশূন্য  রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই, বাসায় ছুরি ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে।

যাদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ছুটি এবং মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে থাকায় অপরাধ আগের চেয়ে কমেছে। তারপরও তারা চোর, ছিনতাইকারীদের ওপর নজরদারি করছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, জনমানুষের ভিড়ে যেসব অপরাধীরা ‘ট্রেডিশনাল’ অপরাধ করত এখন কার্যত বেকার। ফলে এখন থেকে তারাও অপরাধের ধরণ পরিবর্তন করে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়বে।

শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গ্রিণরোড এলাকায় একটি বাসায় গ্রীল কেটে স্বাণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চারতলা ওই ভবনেরর বাসিন্দারা তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  এর আগে গত ২২ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকায় একটি বাসায় ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক চোর গ্রেপ্তার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর একটি মল থেকে থেকে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  সে সময় ৯৩ টি চোরাই ল্যাপটপ উদ্ধার করে তেঁজগাও থানা পুলিশ।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ফটো এডিটর সাহাদাত পারভেজ।  পরে সেখান থেকে তিনি কৌশলে বের হয়ে আসেন।

পুলিশ সূত্র বলছে, অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসব কাজ করছে। তাদের নিবৃত্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ছোট অপরাধ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে তারা এখন বিকল্প পথ হিসেবে বাসাবাড়িতে হানা দেবে।  কারণ সময়ের সঙ্গে অপরাধ ও এর ধরন পরিবর্তন হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘বাসা একেবারে ফাঁকা থাকলে চুরি ডাকাতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  এজন্য ডিবি কাজ করছে।  পেশাদার চুর, ছিনতাইকারীদের আমরা নজরদারিতে রেখেছি।  তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি। এর বাইরে কোথাও যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনা মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে থাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা কম। তবুও প্রতিটি থানাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।’

মানবিক অজুহাতে মাদক পাচার

করোনাভাইরাসের বিষয়ে সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।  সূত্র জানায়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যানবাহন চলাচলে নিষধাজ্ঞার বিষয়টি কাজে লাগিয়ে মাদক চক্রগুলো তৎপর হয়ে ওঠেছে।  ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালানো, ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে যাওয়ার অজুহাত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার অজুহাত দেখিয়ে পিকআপভ্যান ও প্রাইভেটকারে করে মাদকের চালান পরিচালনা করছে তারা।

র‌্যাব-২ কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন ফারুকী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা গাড়িতে করে মাদকের চালান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিচ্ছে যাচ্ছে।  সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে চেকপোস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক্ষেত্রে মানবিক কোনো বিষয় তুলে আনে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাজধানীর তিনটি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে ছয় মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।  

 

ঢাকা/নূর/সাইফ