ঢাকা     শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭ ||  ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

এনবিআর-ডিএনসিসিসহ ৭ প্রতিষ্ঠানে সাহেদের নথি তলব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১২, ১৪ জুলাই ২০২০  

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান পলাতক সাহেদ করিমের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে এবার ৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান টিম প্রধান উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের সই করা পৃথক পৃথক এ তলবি চিঠি পাঠানো হয়।

দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রণব বলেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মোহাম্মদ সাহেদ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের দপ্তর, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বিমানবন্দর শাখা ব্যবস্থাপক, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং এনবিআরের কর অঞ্চল-৯ এর উপ-কর কমিশনারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের সত্ত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট এবং এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

এনবিআরের কর অঞ্চল-৯ (সার্কেল-১৯০) এর উপ-করকমিশনার বরাবর দেওয়া চিঠিতে মোহাম্মদ সাহেদের আয়কর রিটার্ন ও কর নির্ধারণী আদেশসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো চিঠিতে রিজেন্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেড, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, মুন লাইট রিসোর্ট লিমিটেড, ফোর স্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটিড, মুন লাইট বিল্টার্স লিমিটেড, রিজেন্ট কেসিএল, ডি ডেইল অন্য দিগন্ত ও কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটির ট্রেড লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড চিঠির সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়েছে।

এর আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিল দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। সোমবার (১৩ জুলাই) সাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে দুদক। উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে টিমের অপর দুই সদস্য হলেন- সহকারী পরিচালক নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ রিজেন্ট হাসপাতালে নানা অনিয়মের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্য হয়েছে র‌্যাবের অভিযানের মধ্য দিয়ে।

গত সপ্তাহে ওই অভিযানের পর রিজেন্টের দুটি হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে র‌্যাব। পরে ওই হাসপাতালের অনুমোদনও বাতিল করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলায় হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও মালিক মোহাম্মদ সাহেদসহ এখনও পলাতক বলে জানা গেছে।


এম এ রহমান/এসএম

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়