RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

হোটেল বয়ের অবৈধ সম্পদ ৫ কোটি টাকা!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১২, ১৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
হোটেল বয়ের অবৈধ সম্পদ ৫ কোটি টাকা!

এক সময়ের হোটেল বয় পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।  ‍দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চলতি, সঞ্চয়ী ও এফডিআর হিসাবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা আছে।  ২০১৮-১৯ কর বর্ষে তিনি তার আয়কর নথিতে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার সর্বমোট ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্জনের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

এজাহারে বলা হয়, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকে জাকিরের অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য দুদকের হাতে আছে।  মামলার তদন্তের সময় প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো আমলে নেয়া হবে।  জাকিরের নামে কেনা আরো সম্পদের তথ্য দুদকের হাতে থাকলেও এখন পর্যন্ত সে সংক্রান্ত নথি হাতে পায়নি সংস্থাটি।

যদিও অভিযোগে আরো কিছু সম্পদের তথ্য রয়েছে।  যেগুলোর বিষয়ে দুদক তদন্ত চলমান রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজধানীর পুরানা পল্টন ও বিজয়নগরে তার তিনটি বাড়ি আছে।  রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ফ্ল্যাট আছে ২৮টি।  গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আছে ১০০ কাঠা জমি।  কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের যে ভবনটিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই ভবনের চতুর্থ তলাও জাকিরের কেনা। সেখানেই প্রথম সম্রাট তার অফিস করতেন। পরে ওই ভবনের অন্য তলাগুলোও দখলে নেওয়া হয়।

জাকির হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য।  ১৯৭৪ সালে বাস্তুহারা জাকিরের পরিবার বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় তাদের ঠিকানা হয় ডেমরার চনপাড়া বস্তি।  ওই বস্তিতে বেড়ে ওঠেন জাকির।  ১৯৯১ সালের দিকে জাকির কাকরাইল এলাকায় পায়েল নামে একটি রেস্টুরেন্টে দৈনিক ৩০ টাকা বেতনে গ্লাস বয়ের কাজ নেন। এক বছর পর গ্লাস বয়ের কাজ ছেড়ে মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের তৃতীয় তলায় ‘টনি ফিল্ম’ প্রতিষ্ঠানের পিয়ন হিসেবে।  ওই সময় আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা ছিল কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের নিচে ‘হোটেল ম্যারাডোনা’কে কেন্দ্র করে। সেখানেই ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে পরিচয় হয় জাকিরের।  এরপর তারা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। সম্রাট যাদের দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা চালাতেন তাদের মধ্যে জাকির অন্যতম।

সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৪টি মামলা হয়েছে।

এর আগে ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তাঁর ভাই রুপন ভূইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া, কলাবাগান ক্লাবে সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ এবং যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান এবং কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করে দুদক।


ঢাকা/এম এ রহমান/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়