ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৮, ৩০ জুলাই ২০২০  

অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৪২ কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।  দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও আসিফ মাহমুদ বিডিনিউজের দায়িত্ব নেন।  এক পর্যায়ে ৮০ শতাংশ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৯ সালের মে মাসে খালিদী ও তার ছেলে রাদ খালিদীর নামে স্থানান্তর করেন। যার দাম ৮০ লাখ আসিফ মাহমুদকে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের ৩৭১ কোটি টাকার ভুয়া ভ্যালুয়েশন দেখিয়ে প্রতিটি শেয়ার ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেখিয়ে ৪০ হাজার শেয়ার এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামের কাছে বিক্রি দেখিয়ে ৫০ কোটি টাকা নেন তৌফিক ইমরোজ খালেদী।  ১০০ টাকার শেয়ার ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেখানো সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও কাল্পনিক বলে মনে হয়েছে দুদকের অনুসন্ধানে।  অন্যদিকে এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিডিনিউজে অর্থ বিনিয়োগের আগে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন নেননি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তৌফিক ইমরোজ খালিদী তার নামের ২০ হাজার শেয়ার ২৫ কোটি টাকায় রিয়াজ ইসলামের কাছে অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিক্রি দেখান।  যা পরবর্তীতে বিডিনিউজের অ্যাকাউন্ট হতে খালেদীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও তার ছেলের এইচএসবিসি, ইস্টার্ন ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে।  এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন হিসাবে ৪২ কোটি টাকা জমা রেখেছেন, যার বৈধ উৎস নেই।  দুদকের অনুসন্ধানে তৌফিক ইমরোজ খালেদী ওই টাকা অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। 

এছাড়া তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং অপরাধ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জের এখতিয়ার বিধায় দুদক ওই প্রতিষ্ঠানকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তথ্য-প্রমাণসহ চিঠি প্রেরণ করেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এম এ রহমান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়