ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৯, ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

ঢাকার মুখ‌্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত

রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ‌্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) মামলাটি দায়ের করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারীর আত্মীয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা (আদর)। মামলায় বেলায়েত হোসেনের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরো ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর অফিসে দুই বছর আগে বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয় আদরের। তাদের মধ‌্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বেলায়েত হোসেন বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করতে গত বছরের ১১ আগস্ট আদরের বাবা গোলাম মোহাম্মদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা পরিশোধে আসামি ১৫ মার্চ চেক দেন।

গত ৪ এপ্রিল আসামি বেলায়েত হোসেন বাদী আদরের বাবার কাছে একজন লোক পাঠান। তিনি নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তখন আসামি বাদীর বাবাকে ফোন দিয়ে বলেন, ৫ লাখ টাকা না দিলে তার ছেলের অসুবিধা হবে। পরে বাদীর বাবা ৫ লাখ টাকার একটি চেক বেলায়েত হোসেনের নামে দেন। ১০ এপ্রিল বাদীর সঙ্গে তার বাবার কথা হয়। বাদী জানতে পারেন, ব্ল্যাকমেইল করে বেলায়েত হোসেন টাকা নিয়েছেন।

৮ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে ১৫-১৬ জন অজ্ঞাত ব‌্যক্তি ডিবি পরিচয়ে বাদীর বাড়িতে ঢোকেন। তারা ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো এবং বাদীর নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়ার হুমকি দেন তারা। টাকা দিতে না পারায় আদরকে মারপিট করে রাজধানীর মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আদরের বাবা, মা এবং স্ত্রী ডিবি কার্যালয়ে যান। তখন আসামি বেলায়েত হোসেন বলেন, ২৫ লাখ টাকা না দিলে আদরকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে অথবা তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলা দেওয়া হবে। তখন আদরের বাবা সাড়ে ৩ লাখ টাকা আসামিকে দেন। ১০ আগস্ট আরো ৫০ হাজার টাকা আসামিকে দেওয়া হয়। আসামি আরো ৬ লাখ টাকা ৭ দিনের মধ্যে দিতে বলেন, অন্যথায় বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।

মামলাটি গ্রহণ করে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ককে তদন্তভার দেওয়ার আবেদন করেছেন বাদী।

ঢাকা/মামুন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়