ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

৩৮২ কোটি টাকার মালিক, নেই আয়কর নথি

এম এ রহমান মাসুম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:৫৯, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:২৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
৩৮২ কোটি টাকার মালিক, নেই আয়কর নথি

এনআরবি ব‌্যাংকের পরিচালক মো. বদিউজ্জামানের ৩৮২ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তার কোনো আয়কর নথি নেই। শুধু ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ২০১৪ সালে তিনি ই-টিআইএন খুলেছেন। তবে, এখন পর্যন্ত তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে অ‌্যাডভান্স হোম প্রাইভটে লিমিটেড ও ফিনিক্স লিমিটেডের বিশাল অঙ্কের শেয়ার কেনা ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগসহ অবৈধ সম্পদের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তলব করলেও তিনি দুদকে হাজির হননি। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে আছেন বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি বদিউজ্জামান ও তার পরিবারের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানায় প্রায় ১০ কেটি টাকা মূল্যের ১৪৮ বিঘা ভূমির ওপর বদিউজ্জামানের অ‌্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক রয়েছে। এছাড়া, জোয়ার সাহারা মৌজার জগন্নাথপুরে ১১ কাঠা ভূমিতে তৈরি করা হয়েছে ৯তলা আবাসিক ভবন। যার অনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। আছে বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক প্রকল্পের এফ ব্লকে প্রায় ১০ কোটি টাকার আবাসিক বাড়ি। ওই বাড়ির দলির তার স্ত্রীর নামে। বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ৫ কাঠা জমির ওপরে ৭ তলা বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। একই ব্লকের ৫ কাঠা জমির ওপর রয়েছে আরও একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। যা সম্প্রতি ১৬ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এদিকে, গুলশানে রয়েছে প্রায় ৩১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, বনানীর এ ব্লকে রয়েছে বহুতল আবাসিক ভবন, জোয়ার সাহারায় ভাটারা থানায় রয়েছে ১৪৫০ বর্গফুটের ৮টি ফ্ল্যাট এবং উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে রয়েছে বহুতল আবাসিক ভবন।

গোপালগঞ্জ জেলার সদরে রয়েছে প্রায় ৩৫০ বিঘা ভূমির ওপর অ‌্যাডভান্স নিরালা ও অ‌্যাডভান্স সুগন্ধা নামে আবাসিক প্রকল্প। এছাড়া রয়েছে  গোপালগঞ্জ সদরে সার্কিট হাউজ রোডে বিলাস বহুল আবাসিক বাড়ি। এসব স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, ফিনিক্স ইন্স‌্যুরেন্স লিমিটেডে বদিউজ্জামানের নামে প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডে প্রায় ৩০ কোটি টাকার শেয়ার, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ‌্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের দুটি শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব, এনআরবি ব্যংকের বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রেকর্ড পাওয়া গেছে। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বদিউজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের নামে অঙ্গন রেস্টুরেন্ট, তানিয়া ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড, তানিয়া ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড ও এশিয়া প‌্যাসেফিক রিয়েলিটি ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস নামের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অস্তিত্ব পেয়েছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক ও উপসহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই বিষয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক এম বদিউজ্জামান ও তার দুই স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বদিউজ্জামান ও তার পরিবার এত সম্পদের মালিক হলেও তিনি নিজ নামে, ১ম স্ত্রী নাসরিন জামান ও ২য় স্ত্রী তৌহিদা সুলতানার নামে কিংবা তাদের সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের উৎসের পক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র দাখিল করেননি।’

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বদিউজ্জামান বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টধারী। সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিচয়পত্র নং-ই ২১৩১৭৭৬বি ও পাসপোর্ট নং ই৫৬৬৭৭২৯এন। তাকে রেকর্ডপত্রসহ ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও হাজির না হয়ে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। যেখানে তিনি জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেননি বলে দাবি করেন।

ঢাকা/এনই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়