ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করলেন ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১১, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  
ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করলেন ব্যবসায়ী

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করেছেন কাপড় ব্যবসায়ী মো. সোহেল মীর।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান।

গত ১০ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেছিলেন রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকার মো. সোহেল মীর। ওই দিন আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে আজ মামলার বাদী সোহেল মীর আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

ওই মামলায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, খালেদ শেখ ও মো. শাহিনুর, কনস্টেবল মিজান এবং পুলিশের সোর্স মোতালেবকে আসামি করা হয়েছিল।

বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কোতোয়ালি থানাধীন ওয়াইজঘাট এলাকা দিয়ে মেয়ের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন মো. সোহেল মীর। পথে তার দেহ তল্লাশি করে পকেটে থাকা ২ হাজার ৯০০ টাকা নেয় পুলিশ। তল্লাশি শেষে পুলিশ সোহেলকে চলে যেতে বললে তিনি সেই টাকা ফেরত চান। তখন তাকে মারধর করা হয়। লোকজন এসে জানতে চান, ‘কী হয়েছে?’ তখন আসামিরা বলে, ‘সোহেলের পকেটে দুই প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া গেছে।’ তাকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে ফাঁসাতে চায় পুলিশ। তখন সোহেল তাদের কাছে কাগজ দেখতে চান।

পরে আসামিরা সোহেল মীরকে থানায় নিয়ে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে আসামিরা তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। জেএমবির সদস্য হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় ওসি তাদের টাকার ব্যবস্থা করতে বলেন। সোহেলের পরিবারের সদস্যরা রাতেই আসামিদের ২ লাখ টাকা দেন। পরদিন সকালে আরও ১ লাখ টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, মিটফোর্ড হাসপাতালের ভেতরে তিনি মাদক সেবন এবং শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করছিলেন। তার বিরুদ্ধে নন-এফআইআর করে পুলিশ। আবার আসামিরাই তাকে জামিন করিয়ে আনেন। পরে ভিকটিম সোহেল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা/মামুন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়