RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘মালেককে ফাঁসানো হয়েছে’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
‘মালেককে ফাঁসানো হয়েছে’ 

আবদুল মালেক ওরফে বাদল (ফাইল ফটো)

‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির গাড়িচালক হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কিছু লোক আবদুল মালেক ওরফে বাদলকে ফাঁসিয়েছেন’ বলে আদালতে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিমান্ড শুনানিতে এ দাবি করেন আবদুল মালেকের আইনজীবী জি.এম. মিজানুর রহমান।

এরআগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই রুবেল শেখ আবদুল মালেককে আদালতে হাজির করে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবদুল মালেক ডিজি (স্বাস্থ্য ও শিক্ষা) এর গাড়ি চালক। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়ি চালক সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০/২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজ কর্মস্থলে তিনি খুবই প্রভাবশালী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসাসহ নিজ কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবীকে কাজে লাগিয়ে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিত্ত বৈভবের মালিক হন।

এমতাবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, জাল টাকার উৎস, পলাতক আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের জন্য সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু সাত দিন করে ১৪ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন।

আসামির পক্ষে জিএম মিজানুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘‘আইনে আসামিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গভীর রাতে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এটা মানা হয়নি। পুলিশ যে আলামত উদ্ধারের কথা বলছে, তা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। তাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার কারণ, তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির গাড়ি চালক। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছে।

‘আসামি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। শ্বাস কষ্টের রোগী। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন। তাছাড়া তিনি একজন বয়স্ক লোক। আর যা উদ্ধার তা তো উদ্ধার হয়ে গেছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসা করা হোক।”

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে ১৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। 

এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব-১ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
জানা যায়, রাজধানীর তুরাগে গাড়িচালক আবদুল মালেকের ২৪টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট সাত তলার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। একই এলাকায় ১২ কাঠার প্লট। এছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের কর্মচারী হলেও মালেক ছিলেন প্রভাবশালী। তিনি অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ এবং বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার কথামতো কর্মকর্তারা কাজ না করায় তাদের নানাভাবে হয়রানি বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মালেক একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে ব্যবহার করতেন পাজেরো গাড়ি। 

এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব চালকরা আছেন তাদের তেল চুরির টাকার বেশিরভাগই মালেকের পকেটে যেত। রাতারাতি বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক বনে যান তিনি। এসব টাকা দিয়ে মালেক ঢাকা শহরে একাধিক আলিশান বাড়ি, ফ্ল্যাট এমনকি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা রেখেছেন।

ঢাকা/মামুন/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়