RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২০ ||  কার্তিক ১৭ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মানবতাবিরোধী অপরাধ: যে কারণে থমকে আছে ২৯ আপিল

মেহেদী হাসান ডালিম  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:০০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
মানবতাবিরোধী অপরাধ: যে কারণে থমকে আছে ২৯ আপিল

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ২৯ আসামির বিচার ঝুলছে আপিল বিভাগে। এরমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের রিভিউও রয়েছে।  করোনার কারণে দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব আপিল-রিভিউ নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।  এ কারণে এসব আসামির সাজাও কার্যকর করা যাচ্ছে  না।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে মামলা জট কমাতে চলছে ভার্চুয়াল আদালত। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সাধারণ মামলার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার  আপিলও  ভার্চুয়াল আদালতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে প্রসিকিউশনসহ সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন  আইনজীবী,  সাবেক মন্ত্রী, বিচারপতি ও  বুদ্ধিজীবীরা। 

এ বিষয়ে  আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘প্রসিকিউশনের যেসব আইনজীবী আছেন, যারা লিডিং আইনজীবী আছেন, তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল শুনানির বিষয় নিয়ে আলাপ করতে পারেন। এসব আপিল তাড়াতাড়ি শুনানি করা উচিত।’

সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, ‘ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আইনমন্ত্রী থাকার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিল ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধিন-সংবলিত একটি আইন করা হয়েছিল। ওই আইন এখনো আছে।’ তিনি আরও বলেন,  ‘এসব আপিল দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির আদালতে উপস্থাপন করতে পারে প্রসিকিউশন।’ 

করোনার কারণে ছয় মাস কোর্ট বন্ধ ছিল উল্লেখ করে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘এখন তো ভার্চুয়ালি আপিল বিভাগ চলছে।  ভার্চুয়াল কোর্টে সব ধরনের মামলারই বিচার চলছে।  তাই মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিল-রিভিউ শুনানি ভার্চুয়াল কোর্টে হতে বাধা নেই।  আমি মনে করি, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ ধরনের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির বিষয়টি উপস্থাপন করা উচিত। আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।’ 

জানতে চাইলে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমি মনে করি, শহীদের আত্মার শান্তির জন্যই মানবতাবিরোধী অপরাধ আপিল দ্রত নিষ্পত্তিসহ সাজা কার্যকর করতে হবে।  প্রয়োজনে  ভার্চুয়াল আদালতে এসব আপিল অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।  তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ভার্চুয়াল আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আপিল শুনানিতে কোনো বাধা নেই।   এই ধরনের আপিল ও রিভিউ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মন্তব্য ও অবস্থান জানতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও একাধিক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় তিন বছর ঝুলে থাকার পর গত বছরের শেষের দিকে আপিল শুনানিতে গতি সঞ্চার হয়।  শুনানি শেষে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।  এ বছরের শুরুর দিকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহানের আপিল শুনানির জন্য একাধিকবার কার্যতালিকায় আসে। কিন্তু ইতোমধ‌্যে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ‘নিয়মিত আদালত’।  তবে এরই মধ্যেই গত ২৫ মার্চ জামায়াত নেতা আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।  এরপর রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন আজহার। ওই রিভিউ শুনানির অপেক্ষায় আছে।

আরও যেসব আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ার  মোবারক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক খান তাহের, কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদ, মোসলেম প্রধান, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক, জামালপুরের সামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এসএম ইউসুফ আলী, যশোরের সাবেক এমপি জামায়াত নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, নোয়াখালীর আমীর আলী ও জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজারের উজের আহমেদ ও ইউনুছ আহমেদ, ফুলবাড়িয়ার রিয়াজউদ্দিন ফকিরসহ ২৯ জনের আপিল। 

উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই পর্যন্ত ৭ আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তারা হলেন—জামায়তের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী।
জামায়াতের নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তি হয়েছে।  তিনি আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ঢাকা/এনই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়