RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৫ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জামিন জালিয়াতি চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে হাইকোর্টের বিস্ময় 

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  
জামিন জালিয়াতি চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে হাইকোর্টের বিস্ময় 

উচ্চ আদালতে একের এক জামিন জালিয়াতির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, জামিন জালিয়াতি চক্র নথি জাল করে কত জামিন আদেশ হাসিল করে কে জানে? হয়তো আমরা সবগুলো ধরতে পারছি না।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) একটি অস্ত্র মামলায় জামিন জালিয়াতির শুনানিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানির সময় আসামি সাত্তারের আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমানের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, এই জামিন জালিয়াত চক্র আপনাকে চিনলো কিভাবে? আরও দুটি জামিন জালিয়াতির মামলায় আপনি ও আপনার ক্লার্ক সোহেল রানার নাম এসেছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আপনার কোনো দায়িত্ব নেই। মামলা পেলেন আর দাঁড়িয়ে গেলেন। জালিয়াত চক্র আপনার ওপর ভর করেছে কেন?

শেখ আতিয়ার বলেন, মাই লর্ড জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে আমি আসামির এলাকায় আমার ছেলে ও দুই সহকারী পাঠিয়ে তথ্য নিয়ে আদালতে দাখিল করেছি। শেষ বয়সে এসে আমাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমি লজ্জিত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, এই অস্ত্র মামলার এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও রায় পরিবর্তন করে জামিন চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় একমাত্র আসামি আব্দুস সাত্তার। কিন্তু জাল নথিতে তাকে দুই নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে। এক নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে আব্দুস সালামকে। অস্ত্র সাত্তারের কাছ থেকে উদ্ধার করা হলেও জাল নথিতে চাইনিজ কুড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি সাক্ষীর জবানবন্দি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর চেয়ে বড় জালিয়াতি বিচার বিভাগে হয়েছে কিনা আমি জানি না।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, সব নথিইতো সৃজন করা। আদালত আরও বলেন, আমরা কক্সবাজারের সাড়ে সাত লাখ ইয়াবা মামলায় জামিন জালিয়াতির ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানানো হয়নি।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন। জড়িতরা হলেন- আসামি আব্দুস সাত্তার, দুই কারারক্ষী বিশ্বজিত ওরফে বাবু ও খায়রুল, এফিডেভিটকারী আসামির বাবা নিজামুদ্দিন এবং মামলার তদবিরকারক। একইসঙ্গে তদন্তে আইনজীবী জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুস সাত্তার নথি জাল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। পরে ওই জামিন বাতিল করেন হাইকোর্ট।

ঢাকা/মেহেদী/জেডআর

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়