RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামানকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫২, ২০ অক্টোবর ২০২০  
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামানকে হাইকোর্টে তলব

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারাফুজ্জামান আনছারীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১১ নভেম্বর তাকে হাজির হয়ে ধর্ষণ মামলার দুই আসামির একই সময়ে জবানবন্দি গ্রহণ করায় বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক আসামির জামিন শুনানিতে বিষয়টি নজরে এলে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আসামির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল জলিল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পি।

গত বছরের ১৯ জুন এই মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হেমায়েত উদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ এর ৯ (৩) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। এরপর মামলার আসামি মো. কাউছার হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জামিন পান। আর আসামি শাহাদাত ট্রাইব্যুনালে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন।  মঙ্গলবার শাহাদাতের জামিন ও আপিলের শুনানিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রসঙ্গ আসে। এসময় আদালত জবানবন্দির বিষয়টি দেখে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেন।

মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, বন্ধু নবীরুল ইসলামের ফোন পেয়ে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় বাদী (ভিকটিম) তার বান্ধবীসহ কুড়িল বিশ্বরোডের বিসমিল্লাহ কারস লিমিটেডে গেলে রাত ৮টার দিকে তাদের একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। এরপর প্রাইভেটকারটি কিছু দূর গিয়ে ১০০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাদীর বান্ধবীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। সে সময় বাদী গাড়ি থেকে নামতে গেলে তাকে নামতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ধর্ষণের পর বাদীকে প্রাইভেটকারে থাকা আসামিরা (নবীরুল, শাহাদাত ও কাউছার) খিলক্ষেত এলাকায় হোটেল রিজেন্সির সামনে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। গত বছরের ১১ জানুয়ারি আসামি নবীরুল প্রাইভেটকারটি বিক্রি করে দিয়ে গা ঢাকা দেয়। এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পরদিন ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ভাটারা থানায় মামলা করেন বাদী।

দ্বিতীয় দফায় এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে হস্তান্তর করা হয় মামলাটি। তদন্তের সময় গত বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার বাবুবাজার এলাকা থেকে আসামি শাহদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামি মো. নবীরুল ইসলাম ও মো. কাউছার ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরদিন বেলা ১২টায় ঢাকা মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সারাফুজ্জামানের খাস কামরায় শাহাদাত ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই দিন একই সময় আসামি মো. কাউছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করেন মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সারাফুজ্জামান।  

এদিকে বাদী থানায় মামলা করলেও তদন্ত পরবর্তী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা/মেহেদী/জেডআর

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়