RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুডপান্ডার সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৫৫, ২৮ অক্টোবর ২০২০
ফুডপান্ডার সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি 

অনলাইনে দেশের বৃহৎ খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি টিম গুলশান-২ নম্বরে তাদের অফিসে অভিযান চালিয়ে এই তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে।  

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড প্রায় ৫ হাজার ফুডস্টোর থেকে ফুড সংগ্রহ করে ভোক্তার কাছে বাইকারদের মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফুডপান্ডার চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় ফুডপান্ডা কমিশন পায়। ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্যাট গোয়েন্দার উপপরিচালক নাজমুন্নাহার কায়সার ও সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন অভিযান পরিচালনা করেন। যেখানে তারা ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পায়। যে কারণে ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা। 

ভ্যাট গোয়েন্দা জানায়, পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত নথিপত্র ও ব্যবহৃত কম্পিউটার তল্লাশি চালিয়ে বিক্রির কিছু গোপন তথ্য পাওয়া যায়। গোয়েন্দারা ওই তথ্যসহ আরও কিছু বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করে। প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট সংক্রান্ত দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তারা তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অর্থাৎ সেবার কোড এস-০৯৯.১০ এর আওতায় নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ওই কোডে নিবন্ধন নিয়ে বাড়ি ভাড়ার ওপর প্রযোজ্য মূসক পরিহার করে আসছে। যা ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ফুডপান্ডা প্রতিষ্ঠানটি মূলত ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক (অনলাইন প্লাটফর্ম) ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করে থাকে, যার প্রকৃত সেবার কোড এস-০৯৯.৬০। এই কোডের আওতায় ভ্যাট  ৫ শতাংশ ও বাড়ি ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার থেকে জব্দ করা তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের  এপ্রিল পর্যন্ত ৮ মাসে মোট ২৭ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৭ টাকার বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়।  অথচ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় গুলশান ভ্যাট সার্কেলে দাখিলপত্রে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৯ হাজার ৯৭২ টাকা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৫ টাকার বিক্রির তথ্য গোপন করেছে।  যার ওপর আদায় করা ভ্যাট হয় ৫৩ লাখ ১০ হাজার ৭৪ টাকা।  যার ওপর সুদ আসে (২ শতাংশ হারে) ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬২১ টাকা।

এছাড়া প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা সি. এ. রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে বাড়ি ভাড়া বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৯ টাকা দেখিয়েছে। যেখানে ভ্যাট আসে ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৬ টাকা। অথচ তারা কোনো ভ্যাট প্রদর্শন করেননি। সব মিলিয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ মোট ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ফুডপান্ডা। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উৎসে ভ্যাট বাবদ ১ কোটি ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৩ টাকা ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

এভাবে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড পণ্য বিক্রি, বাড়িভাড়া ও উৎসে কর্তন বাবদ মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৬৫৩ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। যেখানে সুদ আসে ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ২৬০ টাকা।  এভাবে মোট ৩.৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা/এম এ রহমান/জেডআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়