RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৩ ১৪২৭ ||  ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জামিন পেলেন সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ১১ নভেম্বর ২০২০  
জামিন পেলেন সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরী

এক্সিম ব্যাংক ও নাসা গ্রুপের দায়ের করা মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন দি এশিয়ান এজ পত্রিকার এডিটরিয়াল বোর্ডের চেয়ারম্যান শোয়েব চৌধুরী।

বুধবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুল ইসলাম শুনানি শেষে ১ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন।

মঙ্গলবার শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আইনজীবী প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস ও কল্যাণ কুমার সাহার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শোয়েব চৌধুরী।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকেই মানহানির মামলা করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তাছাড়া মামলার ধারা জামিনযোগ্য।’ শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টেবর দি এশিয়ান এজ পত্রিকায় ‘এ মনস্টার বিহাইন্ড স্পয়েলিং ব্যাংকস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নাসা গ্রুপ ও এক্সিম ব্যাংককে জড়িয়ে মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, এমন অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর এক্সিম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং নাসা গ্রুপের পরামর্শক লেফটেন‌্যান্ট কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলাম একই বছরের ১১ নভেম্বর বাদী হয়ে শোয়েব চৌধুরীসহ এশিয়ান এজের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মানহানি মামলা করেন।

এক্সিম ব্যাংকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেদনে এক্সিম ব্যাংককে শেয়ার মার্কেটে একটি দুর্বল ব্যাংক হিসেবে দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করা হয়। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিরীক্ষণ করা থেকে বিরত রেখেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত নিরীক্ষা টিমের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংকে নিরীক্ষা চালিয়েছে। এশিয়ান এজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় অংকের রহস্যজনক ঋণ ও খেলাপী ঋণ আছে, যা সঠিকভাবে নিরীক্ষিত হলে এক্সিম ব্যাংক দেউলিয়া হবে। প্রতিবেদনের এমন বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যানসহ ও অন্যদের মানহানি হয়েছে।

নাসা গ্রুপের মামলায় অভিযোগ করা হয়, এই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের ৫৫টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। যার বর্তমান সম্পদমূল্য প্রায় ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই গ্রুপের ব্যবসায়িক টার্নওভার ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাদীর সুনামহানি করে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এমন অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

মামলা দায়েরের পর আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। চলতি বছরের জুনের প্রথমদিকে পিবিআই পাঁচ আসামিকে বাদ দিয়ে শোয়েব চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

ঢাকা/মামুন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়