Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪২৭ ||  ২১ রজব ১৪৪২

জাফরুল্লাহসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তাগিদের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২১, ২১ জানুয়ারি ২০২১  
জাফরুল্লাহসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তাগিদের আবেদন

নাসরিন আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন তাগিদের আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদার আক্তারের আদালতে এ আবেদন করেন মামলার বাদী নাসরিন আক্তারের স্বামী এস এ আলম সবুজ।

আবেদনে বলা হয়, মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল।  পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তাগিদ দেওয়ার পরও ধার্য তারিখে তারা কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি।  এজন্য বাদীর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।  ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিবেদন দাখিল একান্ত প্রয়োজন।

আদালত আগামী ২৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। এদিকে, এদিন মামলায় পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য একই আদালত ওইদিন প্রতিবেদন দাখিলের তারিখও ধার্য করেন।

গত ২২ ডিসেম্বর নাসরিন আক্তারের স্বামী এস এ আলম সবুজ মামলা দায়ের করেন। আদালত পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ডা. নাসরিন, ডা. শওকত আলী আরমান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. দেলোয়ার হোসেন এবং সেবিকা শংকরী রানী সরকার।

মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, এস এ আলম সবুজের স্ত্রী নাসরিন আক্তার গত ২৪ সেপ্টেম্বর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের ধারণা ছিল, সেখানে ভালো চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু তারা সেবা পাননি। নাসরিন আক্তারের প্রসব বেদনাকালীন সময়ে স্বামী সবুজ বারবার শংকরী রাণীকে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি।  রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে সবুজ শংকরী রাণীকে ডাক্তার ডাকার অনুরোধ করেন।  তখন শংকরী রাণী ইন্টার্ন চিকিৎসক শুভ ও নুপুরকে ডেকে আনেন। তারা দুজন এসে জানান, সবকিছু ঠিক আছে। এরপর শংকরী রাণী ডা. দেলোয়ার হোসেন ও ডা. নাসরিনকে আসার জন্য ফোন করা হয়েছে বলে জানান।  কিন্তু কোনো ডাক্তার আসেনি। ভিকটিম স্যালাইন, ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগের অনুরোধ করলে তারা তা করেনি। শংকরী রাণী স্যালাইন, ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই ভিকটিমকে জোর করে বাচ্চা প্রসব করায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের একপর্যায়ে ভিকটিম একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

রোগীর মৃত্যুর পেছনে তাদের কিছু অবহেলা আছে বলে স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে বাদীপক্ষকে পাত্তা দেয় না। আসামিরা বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে না, পারলে মামলা করেন।  গত ১৭ ডিসেম্বর বাদী ধানমন্ডি থানায় যান মামলা করতে। থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়। বাদী মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

মামুন/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়