Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

সুসাইডাল নোটে যা লিখে গেছেন ঢাবি ছাত্র সাকিব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৪:১২, ২৮ অক্টোবর ২০২১
সুসাইডাল নোটে যা লিখে গেছেন ঢাবি ছাত্র সাকিব

১ সেকেন্ড ১ বছরের মতো মনে হয়। ১২ বছর যন্ত্রণা সইতে হয়েছে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আদনান সাকিব আত্মহত্যা করেছেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলেও সুইসাইডাল নোটে তিনি লিখে গেছেন। 

ঘটনার পর পুলিশ ওই সুসাইডাল নোটটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে কথা হয় শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মওদুত হাওলাদারের সঙ্গে। 

মওদুত হাওলাদার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সুইসাইডাল নোট দেখে মনে হচ্ছে আদানান সাকিব কোনো সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। সেটা পারিবারিক, সাংসারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত নানা কারণে হতে পারে। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। পাশাপাশি তার স্ত্রীকেও বিষয়গুলো অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি তার আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাকিব আত্মহত্যা করেছেন। কেননা সেগুনবাগিচার আবাসিক হোটেল কর্ণফুলী দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ‘সাকিব যে সুইসাইড নোট লিখে গেছেন সেখানে তিনি তার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী নুসরাত আফরিনকে দোষারোপ না করার কথা বলে গেছেন। পাশাপাশি স্ত্রী খুব ভালো বলেও তিনি লিখে যান। তবে ১২ বছরের যে যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে সেটি কি তা কেউই নিশ্চিত করতে পারেনি। 

গত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর)  থেকে সাকিব নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় পরে তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সাকিবের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে। বুধবার রাতে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় সাকিব সেগুনবাগিচার ওই হোটেলের ১০৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। পরে সেখান থেকে সাবিবের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্ত্রী নুসরাত বলেন, পরশুদিন দুপুরে শেষ কথা হয় সাকিবের সঙ্গে। এরপর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইল বন্ধ ছিল। সম্ভাব্য অনেক স্থানে খোঁজখবর করা হয় সাকিবের। কিন্তু কেউ তার সন্ধান দিতে পারেনি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে  কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কিনা?
 এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দাম্পত্য জীবনে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি যে সাকিবকে এভাবে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। 

সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাস্টার্স করছিলেন অন্য একটি বিভাগ থেকে। থাকতেন জহুরুল হক হলে। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলার সোনাখুলিতে। তার এভাবে চলে যাওয়া সহপাঠীরাও মেনে নিতে পারছেন না।

ঢাকা/মাকসুদ/মাসুদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়