ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৫ ১৪২৮ ||  ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার কারণেই খুশি বেগম খুন: সিআইডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ৪ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:৩২, ৪ ডিসেম্বর ২০২১
বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার কারণেই খুশি বেগম খুন: সিআইডি

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ছাতকে আলোচিত খুশি বেগম হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির উদঘাটিত তথ্য মতে, মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল খুশি বেগমের। এক পর্যায়ে বিয়ে করতে মহিউদ্দিনকে চাপ দিতে থাকেন খুশি।  মহিউদ্দিন তাকে বিয়ে না করে খুশিকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ধান ক্ষেতে খুন করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, সমস্ত বিষয়াদি যাচাই বাছাই করে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের ক্লু নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) মো. মহিউদ্দিনকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার কেডিএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মুক্তাধর আরও বলেন, মহিউদ্দিন স্বীকার করেন তার সঙ্গে খুশি বেগমের (১৫) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন যাবৎ খুশি তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।  মহিউদ্দিন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি পরিবার ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের কাছে প্রকাশ করার কথা জানায়। তখন সে পরিকল্পিতভাবে ১৭ নভেম্বর রাতে খুশি বেগমকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

তিনি বলেন, এর আগে ১৭ নভেম্বর রাতে সিলেটের সুনামগঞ্জের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় খুশি বেগম। সে মুক্তিরগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিখোঁজের বিষয়ে ছাতক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। ৪ দিন পর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় খুশি বেগমের লাশ দেখতে পেয়ে তার বাড়িতে খবর দেয়। তাৎক্ষনিকভাবে বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ খুশি বেগম মর্মে শনাক্ত করে। স্থানীয় থানা পুলিশ লাশটির সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। 

তিনি বলেন, খবরটি বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়  প্রচারিত হলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। 

তিনি জানান, খুশির বাবা কবির মিয়া ছাতক বাস স্ট্যান্ডে ট্রান্সপোর্ট সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে নিয়োজিত। তার  ৬ মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খুশি বেগম সবার ছোট। ইউসুফ নামে এক লন্ডন প্রবাসীর সাথে প্রায় ২ বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুশির বিয়ে হয়। স্বামীর অবর্তমানে একই এলাকার মহিউদ্দিনের সঙ্গে খুশি বেগমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  মহিউদ্দিন খারগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০১৮ সালে হেফজ্ পাশ করে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর রাতে খুশি বেগম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরে ২১ নভেম্বর সকালে গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খুশির মৃত্যু নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা/মাকসুদ/টিপু 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়